ইংরেজি ভাষা শিক্ষণে সাফল্যের জন্য করণীয় কী?
আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি
বড় সমস্যা হল :শিক্ষাদান পদ্ধতি ও
কৌশল সম্পর্কে নির্দেশনা দেন তারা যারা সরাসরি শিক্ষার সুনির্দিষ্ট স্তরে শিক্ষাদান
কার্যক্রমে যুক্ত নন। আবার এঁদের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে যারা দেখবাল করেন তাদেরও যোগ্যতা সীমিত এবং
অভিজ্ঞতা নেই।এদের অধিকাংশেরই শিক্ষাদান এবং গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রধান সহযোগীর ভূমিকায়
থাকার অভিজ্ঞতা নেই।ফলে আমরা শিক্ষকগণ এক মহা যামেলায় আছি।
ইংরেজি যাদের মাত্রিভাষা নয়
তারা কিভাবে এই ভাষা রপ্ত করবে;এটি দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত সমস্যা।কারণ,শিক্ষায়
দীর্ঘদিনের স্বীকৃত নীতি-পদ্ধতিও অনেক সময়ে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের
বিভিন্নতার কারণে সফল হয়না।
কিছুদিন পূর্বে সরকারি এক বিশেষ
নির্দেশে বলা হয়েছে যে ইংরেজি পাঠদানে শেণিকক্ষে শিক্ষক ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় বক্তৃতা
প্রদান করতে হবে।কিন্তু এই নির্দেশনা কতটুকু যৌক্তিক তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রথমত
গ্রামাঞ্চলের শিক্ষারথীরা এই প্রক্রিয়া গ্রহণে একেবারেই অনিচ্ছুক। আমার স্কুলের নবম
শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এটা মানতেই রাজি নয়।তাদের প্রত্যাশা হল :ইংরেজি বক্তৃতাকে আবার
বাংলায় অনুবাদ করে দিতে হবে;অন্যথায় তারা পাঠগ্রহণে অসমর্থ
হবে।এখন আমি কী করি?পাঠদান বজায় রাখার জন্য শিক্ষার্থীর চাহিদাকে
মূল্য দিতে হল ।দ্বিতীয়ত বিগত ক'বছর পূর্বে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের একটি গবেষণায়
দেখেছে যে ইংরেজি যাদের মাতৃভাষা নয় তাদেরকে অন্ততপক্ষে দশম গ্রেড পর্যন্ত অনুবাদের মাধ্যমে
উভয় ভাষায় দক্ষ করে তোলা উচিত।তারপরে,পুরোপুরিভাবে ইংরেজি
ভার্শনে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীর অর্জন স্থায়ী এবং ফলফ্রসু হয়।ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেই এর স্বাক্ষী।এই বিষয়ে
আমি আমার অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে চাই।
আমার অতীত অভিজ্ঞতা:
আশির দশকে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে
জ্ঞানার্জন মুখস্ত নির্ভর ছিল।আমরা বিষয়ের পাঠ মুখস্ত করেই পাশ করতাম।এর বিকল্প কখনো
ভাবিনি।কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আমার নতুন অভিজ্ঞতা হয়।এইজন্য আমি
আমাদের বায়োলজির সম্মানিত অধ্যাপক মোমিন উল্লাহ স্যারের কাছে
ঋণী। আমরা বেশ কয়েকজন ছাত্র তাঁর কাছে ইংরেজি প্রাইভেট পড়তাম।তিনি প্রথমে আমাদেরকে
ইংরেজি বর্ণমালা শেখান। তারপর তিনি একএকটা করে ইংরেজি ব্যাকরণের পাঠ দেন;এবং প্রতিটি পাঠের পরেই তিনি বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ করাতেন।সেক্ষেত্রে
তিনি বাংলা পদক্ষমের সাথে ইংরেজি পদক্রমের তুলনা করে দেখাতেন।দেখা গেছে আমরা অল্পদিনের মধ্যে নিজের
মত করে কিছু কিছু ইংরেজি লেখায় সমর্থ হই।বর্তমানে আমি নিজেও এই কৌশল অনুসরণ করে সফলতা
লাভ করেছি।আমার ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই নিজের অনুভূতি সহজে ইংরেজিতে সুন্দর করে প্রকাশে সক্ষম।নিম্নে
আমি আপনাদের জ্ঞাতার্থে তা উপস্থাপন করছি।আমি বিশ্বাস করি আপনাদের অনেকে এটি জানেন।
১.আমি ডাকি।
-I call.
২.আমি তোমাকে ডাকি।
I call you.
৩.আমি তোমাকে সকালে ডাকি।
I call you in the morning.
মূল্যায়ন পদ্ধতির
দূর্বলতাঃ
যেহেতু আমাদের পাবলিক পরীক্ষায়
শিক্ষার্থী মূল্যায়নে Writing Skill -ই একমাত্র নির্ণায়ক।ফলে
শিক্ষার্থীদের কোনভাবেই বাকি তিনটি দক্ষতার প্রতি আগ্রহী করে তোলা যাচ্ছেনা। এই বিষয়ে
ভাবা উচিত।মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যৌক্তিক পরিবর্তন কার্যকর করা উচিত।
বাংলা ভাষার মাস্তানি :
ভাষা বিজ্ঞানীগণ দুষ্টুমিচ্ছলে
বলেন,বাংলা
হল মাস্তান ভাষা। ফলে সর্বত্র তার প্রভাব অপ্রতিহত।আপনি বাংলাদেশে থাকবেন,খাবেন,ঘুরবেন; আবার বাংলাকে
একদিকে সরিয়ে ইংরেজি নিয়ে বাতচিত করবেন তা কী করে হয়।একজন মাস্তান যেমন তার এলাকায়
অন্য কারো অস্তিত্ব অস্বীকার করে , তেমনি বাংলা ভাষাও।এখানে
পথে, ঘাটে ,মাঠে বাংলাই শোনা যা
;ইংরেজি নয়।বাংলার সমান্তরালে অন্য একটি ভাষা Communicative পদ্ধতিতে আয়ত্ব করা
যুক্তিতে টেকে না।দেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের একজন অধ্যাপক বলেছিলেন(আমার শিক্ষক),তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য অক্সফোর্ড়ে
গেলে প্রথম এক বছর তাঁকে ইংরেজি ভাষার উপরে তালিম নিতে হয়েছিল।তারা বলেছিল,"তুমি খুব ভাল ইংরেজি জানলেও আমাদের প্রয়োজন অপূর্ণই থেকে যাবে।" আসলে, নেটিভ না হলে ভাষাও দেশ নিরপেক্ষ হয়ে যায়।যে কারণে ইংরেজি ভাষার উচ্চারণে
এবং ব্যবহারে দেশ নিরপেক্ষ চরিত্র উপস্থিত রয়েছে।
কোন স্তরের যোগাযোগ দক্ষতার জন্য Communicative English:
কোন স্তরের যোগাযোগের চাহিদা
পূর্ণ করার জন্য Communicative English কে অধিকতর
গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তা ভেবে দেখা উচিত।উচ্চতর গবেষণার জন্য শুধুমাত্র মুখের সাধারণ
বাতচিতের ভাষা কোন কাজে আসেনা।এর জন্য ভাষার উচ্চতর জ্ঞানার্জন প্রয়োজন।
ইংরেজি শিক্ষকের সংকট :
ইংরেজিতে ধারাবাহিক দক্ষতা অর্জনের
জন্য শিক্ষার প্রতিটি স্তরে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক প্রয়োজন ;কিন্তু এই বিষয়টি এখন
পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি।ফলে সব ধরণের বচন আর কথন ব্যর্থ হচ্ছে।শিক্ষার গুণগত মান
উন্নয়নের জন্য গুণগত মানের শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য
শিক্ষাবিদগণের সুপারিশকে আমলে আনলে শিক্ষায় সফলতা অনিবার্য।আশাকরি,সরকার সেরকম পদক্ষেপই
নিবে।
----
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন