প্রতিবাদের ভাষা
মানুষগুলো
আর মানুষ নাই;সবাই মুখোশ পরে আছে।সব যেন এক একটা জানোয়ার।যতই হিদায়াতের
বাণী শুনে, তাদের কোন পরিবর্তন হয়না।তাই, দীর্ঘ প্রায় আট দশক ধরে দরবেশ
সাহেব জন্মদিনের পোশাকে থাকেন।তাঁর নাম কেউ জানেনা; শুধু এটুকু জানে যে
তিনি খাড়া দরবেশ।বিগত শতাব্দীর শুরুতে তিনি বসুরহাট বাজারে থাকতেন।যাদের
কিতাবের জ্ঞান আছে, তারা খাড়া দরবেশকে নিয়ে নিন্দাসূচক শব্দ বলতেন; তবে
পেছনে। সামনে আসতেন না।তিনি কিভাবে জানি মানুষের গোমর ফাঁস করে
দিতেন।উল্লিখিত দরবেশের দিগম্বর রুপ ছিলো প্রতিবাদের
ভাষা।তিনি বলতেন পশু-পাখি-জানোয়ারের সামনে শরীর ঢাকার কোন দরকার নেই।তবে
বছরে একবার এর ব্যতিক্রম হতো।জৌনপুরের পীর সাহেব অত্র এলাকা সফরে আসতেন।
খাড়া দরবেশ কোন এক অজ্ঞাত উপায়ে তাদের আগমনের সংবাদ পেয়ে যেতেন।তখন
পথচারীদের উদ্দেশ্য বলতেন,"মানুষ আসছে,একখানা লুঙ্গি দাও।"
ইসলামের স্বর্ণযুগে জ্ঞানীগুণীদের আত্মমর্যাদাবোধ ছিলো ঈর্ষনীয়। তাঁদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এর প্রমান পাওয়া যায়।তখন বাগদের সিংহাসনে আসীন ছিলেন খলিফা মনসুর।তিনি কাজী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলেন।সে যুগের বিখ্যাত চারজন বিখ্যাত মনীষীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করলেন।চারজন হলেন,ইমাম আবু হানিফা,সুফিয়ান সাওরী,শোরায়াহ ও ইমাম শা'বী। তারা চারজনই কাজীর পদ গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিলেন।বিশেষ করে, তারা চলমান খিলাফত নামের রাজতন্ত্র মানতে পারেননি।দ্বিতীয়ত, রাসূল(সাঃ) -এর একটা হাদিস ছিলো, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে,যাকে কাজী নির্বাচিত করা হয়েছে তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তাঁদের খলিফার দরবারে ডাকা হলো। তাঁরা একই সঙ্গে আসছিলেন।পথে ইমাম আযম বললেন,যেভাবেই হোক, আমি এই পদ গ্রহণ করবোনা।সুফিয়ানকে বললেন, আপনি সরে পড়ুন।শা'বী আপনি পাগলের ভান করুন। সুফিয়ান সরে পড়লেন।বাকি তিন জন দরবারে গেলেন।
খলিফা প্রথমে ইমাম আবু হানিফা(রাঃ) কে কাজীর পদ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করলেন।তিনি বললেন,আমি আরবের লোক নই।অতএব আরবের প্রধানগণ আমার হুকুম মানতে চাইবেনা।জাফর বারমাকী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।তিনি বললেন,গোত্রের সাথে পদের কী সম্পর্ক? এবার ইমাম বললেন,আমি এই পদের যোগ্য নই।এর প্রমান হলো,এই কথা হয় সত্য হবে,না হয় মিথ্যা হবে।সত্য হলে তো আমি এই পদের উপযুক্ত নই।আর যদি মিথ্যা হয়, তাহলে একজন মিথ্যাবাদীকে এরূপ দায়িত্বপূর্ণ পদের নিযুক্ত করা ঠিক নয়।এভাবে তিনি বাদ পড়লেন।
অতঃপর শা'বী এগিয়ে এসে খলিফার হাত ধরে বললেন,জনাব,আপনি কুশলে আছেন তো! আপনার পরিবার পরিজন কেমন আছে?খলিফা তার কথা বার্তার ধরন দেখে বুঝলেন,নিশ্চয় লোকটার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে।তিনি বাদ পড়লেন।
এবার শোরায়ার পালা।তিনি বললেন,আমি পাগল এবং আমার মস্তিষ্ক অত্যন্ত দূর্বল।আমার পক্ষে দায়িত্বপূর্ণ কাজ করা অসম্ভব। শুনে খলিফা বললেন, চিকিৎসা করলে রোগ সেরে যাবে। অবশেষে, তিনি উক্ত পদে নিযুক্ত হলেন।
২৫/০৯/২০২১
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন