শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা সমস্যাঃকারণ ও ফলাফল



Due to Rohingya Problems

Rohingya problem with many likhatechena . Innocent children , women and old people are victims of extreme cruelty . How long will this problem ? The world leader of the state is watching . The brutality against a system is denying . However, the rest of the world, people of all the inhuman ?

Rohingya problem reason :

Rohingya issue unresolved stay pechene Myanmar government is responsible and they are the long-term is . Because , on the back of their interests involved . These are:
Prathamatahmayanamare a long time in power was the military junta . The military junta in power remain the source of the country's war- create that , and this pretext power grab that . Citizens armed forces unjust power applied to the mental and the armed forces, power lasting that . The Burmese military junta and their The country's various ethnic groups, with the unresolved battles fought was , is still there . The puppet government sitting there .
Secondly , Burma was one of the most promising countries in Asia . A country rich in agriculture and mineral resources . Armed Forces oppressed poor countries become was . China 's neighbor, whoever did this country a democratic way forward is . Because , in Burma when the democratic government established by the Chinese Communist Strong Position Established . As a result, democracy is the path China to their far away the fear was . So the Burmese authorities of those people confirmed that .
Trtiyatahbartamana weak democratic government in power at the moment is like a walk cheyechila . It is a military -backed people wanted was not . So sampasyara levels more than a little floated . We see it on the Song Diary of their army brutality toward the shamelessly looked there . He 's nothing to do there .    
Caturthataheta fact that Bangladesh next decade, the world's most powerful countries, as well as appear to be . Bangladesh is a brave state in favor of justice in the international arena . With with the democratic governance system is running . Their aim is to keep Bangladesh in trouble . This program includes them , including Israel , the United States   Allies pioneers .
We have already learned that the Israeli weapons and training with the Myanmar army, help is . Bangladesh they are their first line satrudesa the babecana that . A large Muslim population dominated areas , but the militancy spread in this region is limited .  
Fifthly Arakan region is rich in agriculture and mineral resources . At the same time , there is a safe road to maritime communication in this region . When the democratic government is established , the provincial government will be established . Then the power will be decentralized . As a result, before the bug army forces lebase Suu Kyi disturbance paid to do . So he safely      Since the genocide approval are .

Myanmar military checkpoint Who attacked who ?

Army checkpoint attack that I have no faith did not . Actually the Myanmar Army's an excuse was needed . They are themselves the creation of the . Their senabahanira joyanera once known . In the past , as many Rakhine ethnic cleansing campaign was always their asradhari group attacked the charges brought were . Rohingya         By senacauki attacked the press neutral sutratheke verified to have been the key not only to the need . If the thirty forty police and army checkpoint Akram made is that the Rohingyas are organized to prevent the products being .

Results:

Repeatedly attacked the Rohingya migration as they left the property magasaha other people occupied the taking . Later , if they return there , their life will start from zero and the chronic problems will arise .
Dbitiyatahbisbabyapi jangisrstite efficient the Mossad . The Muslim holiness disguise the work that remains . Illiterate and abused the young men in their trap foot does . And netasunya sbadhinatakamirao militant name badge is ; This is wrong . Again , it is true, the chances are . The refugees as a     Most of the people who are coming are women and children .
Trtiyatahsantipriya Bangladesh inevitable long-term problems with the involvement was . Neighboring countries immoral actions responsibility for our bear can get . Our fear is not well known in this region for the upcoming yuddhaphrantera part of the expression is .
If the problems of the fourth phase of the Rohingya are not resolved , the anti - national groups will look for opportunities and speculate that they are moving very far . This problem will spread to adjacent areas in India . Finally Rakhine empires freedom was likely to have .
Pancamatahantarjatika in Bangladesh 's ability to prove able to .
Cruelty does not prolong the stability of any nation ; Rather it accelerates the fall . The Myanmar government is the problem behind not only the resolving active as we should . Bangladesh human being linked with the creation problem solving approach chaliye go to .

শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশে শিক্ষায় এমপিও ভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া



প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশে  শিক্ষায় এমপিও ভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষায় এমপিও ভুক্তিকরণ বিষয়টি বহুল আলোচিত একটি বিষয়।শিক্ষাদান কার্যক্রমে যুক্ত থেকেও দীর্ঘদিন লক্ষাধিক শিক্ষক  বিনাবেতনে শ্রম দিয়ে আসছেন।এদেশে   চাকুরীর বাজার সংকুচিত। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবসম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এটি অধিকতর সত্য।ফলে এরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং কলেজে শিক্ষকতায় যুক্ত হয়।সরকারি অংশের বেতন পাবে এই আশায় অন্যত্র যেতেও পারেনি।আবার অনেকে বলেন,তারা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের সংকটে পড়বে।তাই স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে শিক্ষকতা ছাড়তে পারেননি।এদিকে তারা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।অনেক শিক্ষকের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে;বিয়ে করা সম্ভব হচ্ছেনা।

সরকার কী করছে?

যে কোন সরকারের অন্যতম কাজ হচ্ছে শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজানো।বাংলাদেশের  স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই জাতির জনক কতিপয় সাহসী পদক্ষেপ নেন।তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকারি করেন।ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে শিক্ষাখাতকে আধুনিকীকরণের পদক্ষেপ নেন।যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন।কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।যদিও ডঃ কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষাকমিশনের প্রণীত শিক্ষানীতি যুগের চাহিদা এবং চ্যালেঞ্চ মোকাবেলায় সমর্থ ছিল।বঙ্গবন্ধু জনগণের শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দিতে চেয়েছিলেন।খুদা কমিশন রিপোর্টে তার প্রতিফলন ছিল। কিন্তু পরবর্তিকালে যারাই রাস্ট্রিয় ক্ষমতা দখল করেছে তারা শিক্ষাখাতকে অবহেলা করেছে।বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষা চরম অবহেলার শিকার।এখানে সরকারি, বেসরকারি(সরকার নিয়ন্ত্রিত ),বেসরকারি (সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে),মাদ্রাসা,কওমি মাদ্রাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক কলেজ ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত। সরকার তাদের নিয়ন্ত্রিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিও নামে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে  বেতনের অর্থপ্রদান করে থাকেন।এটা প্রতি মাসে ঘোষণার মাধ্যমে দেয়া হয়।এক্ষেত্রে যেসকল প্রতিষ্ঠান পূর্বথেকে এমপিও ভুক্ত হয়েছেন সেসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ  কিছুটা ভাল আছেন।বাকি প্রায় লক্ষাধিক এমপিও প্রত্যাশী শিক্ষক হতাশাগ্রস্থ।
মাঝেমধ্যে এমপিওভুক্তির বিষয় আলোচনায় আসে। কিন্তু সরকারের বভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এই সকল প্রতিষ্ঠানের এমপিও হচ্ছেনা;এটা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্তাগণের অভিমত।অন্যদিকে অর্থমন্ত্রণালয়ের অভিমত হচ্ছেঃশিক্ষামন্ত্রণালয় কাজে আন্তরিক  নয়। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল কয়েকশত এমপিওহীন শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি বহরের সামনে শুয়ে পড়েন এবং জনৈক শিক্ষিকা শিক্ষামন্ত্রীর পা জড়িয়ে ধরেন।তিনি তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আবেদন জানান।শিক্ষকদের অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে এটা থেকে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়।অনেকে অভিযোগ করেন,যারা কর্তাব্যক্তিদের ঘুষ দিতে পেরেছেন তারা নিকট অতীতে এমপিওএর আওতায় এসেছে।সরকারের অপরাধ দমনবিভাগ মাঝেমধ্যে শিক্ষাবিভাগের দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের ধরে। কিন্তু যারা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি তারা কোন আশার আলো দেখছেনা।এটাতো গেল এমপিওহীন প্রতিষ্ঠানের সমস্যা। এরসাথে যুক্ত হল এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত ICTএবং শাখা শিক্ষকগণ।   তাদের অনেকের চাকুরীকাল দুই থেকে তিন বছর হয়েছে কিন্তু এমপিওভুক্ত হয়নি।এরা অমানবিক অবস্থার মধ্যে দিনা কাটাচ্ছে।নিয়োগকৃত শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান থেকে এইসকল শিক্ষকদেরকে চার থেকে দশ হাজারটাকা পর্যন্ত প্রদান করাহয়।এই টাকা দিয়ে কিভাবে সংসার চলবে তা সহজে অনুমেয়।
সরকার কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত?
'কর্মী কাজ করবে অথচ বেতন পাবেনা 'এটা কোন সভ্য সমাজের নীতি নয়।সরকার এই নৈতিক অনুভূতিতে জাগ্রত হওয়া উচিত।এমপিওহীন শিক্ষকগণ রাষ্ট্রের স্বপক্ষে কাজ করছেন;এটাতো শতভাগ সত্য। এখন সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
এমপিও করার প্রস্তাব আসলেই অর্থসংকটের অজুহাত আনা হয়।এটা মানা যায় না।শিক্ষাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে এই খাতে ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নিতে হবে।আমাদের নিকট প্রতিবেশী থাইল্যান্ড শিক্ষাখাতে জাতীয় আয়ের কুড়ি ভাগ ব্যয় করে।বাংলাদেশ যদি ঐপর্যায়ে ব্যয় করে তাহলে শিক্ষাখাতের সৃষ্ট সমস্যার সিংহভাগ সমস্যার  সমাধান হয়ে যাবে।
দেশের স্থায়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের জন্য শিক্ষাখাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিকল্প নেই।সরকার বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থাকে গতিশীল করার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে এমপিওহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহকে এমপিওভুক্ত করা উচিত।এরজন্য প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্ধ নিশ্চিত করতে হবে।আমরা সেই দিনের প্রতীক্ষায় আছি।
                               -----

বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

শিক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়ন বিষয়ে কারা সিদ্ধান্ত দিবেন?

শিক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়ন বিষয়ে কারা সিদ্ধান্ত দিবেন?
আজকে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা সচিব পাবলিক পরীক্ষায় এম সি কিউ পদ্ধতি প্রত্যাহার করার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন।শিক্ষার্থীর মেধা ও অর্জিত যোগ্যতা মূল্যায়নের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পদ্ধতি হচ্ছে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র। এই পদ্ধতির প্রতিকূলে প্রশাসনিক পদের একজন এইরকম প্রত্যয় ব্যক্ত করা কতটুকু সঠিক তাহা ভাবার বিষয়।
বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই রকমটা হচ্ছে।বিশেষভাবে বলতে গেলে বেশ কয়েক বছর ধরে বই,সিলেবাস,মূল্যায়ন, শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত বদল হচ্ছে।এইক্ষেত্রে আমরা দেখেছি শিক্ষাবিশেষজ্ঞদের মতামতকে খুব একটা আমলে নেয়া হয়নি।বর্তমানে শিক্ষাসচিবের আহবান করা এসম্পর্কিত মিটিংএ শিক্ষায় বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ অনুপস্থিত থাকেন;দু'একজন উপস্থিত থাকেন।তাঁদেরকেও আমরা চিনি।  আমরা টিভি টকশোতে জনৈক খ্যাতিমান শিক্ষাবিদের অভিমত শুনেছিলাম।
একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা যেমন করে একজন পল্লী চিকিৎসক দেয়া অনুচিত, তেমনি শিক্ষাবিষয়ে যথেষ্ট গবেষণা না থাকলে এই রকম স্বীকৃত পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা ভুল।
মূল সমস্যা কোথায়?
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল অবস্থার জন্য দায়ী মূলত যৌক্তিক সিদ্ধান্তের অভাব।শিক্ষায় শৃঙ্খলার জন্য প্রথমেই দরকার উপযোগী শিক্ষানীতি। তারপর প্রয়োজন শিক্ষা আইন।কারণ,শিক্ষা আইন নিশ্চয় আন্তর্জাতিক মানের হবে এবং তা সার্বজনীন কল্যাণ নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে পৃথিবীর  সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নিশ্চয় শিক্ষকও বিশ্বমানের হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা মূলতঃ তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক সৃষ্ট। যারা শিক্ষাদান কার্যক্রমে যুক্তনন তারাই দায়ী।এখন প্রয়োজন ঐসব লোকের হাত থেকে একে মুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করা।
আমি মনে করি শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের দিকটি যথাসম্ভব বিদ্যালয় অভিমূখী করা উচিত।শিক্ষার্থীর পুরো বছরের মূল্যায়নকে চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিবেচনায় আনা উচিত। প্রয়োজনে জেলাভিত্তিক শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠা কপ্রা উচিত।সাথে সাথে সবচেয়ে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় অন্তর্ভুক্ত করানো উচিত। কিভাবে তা সম্ভব হবে তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
সৃজনশীল প্রতিভা আবিষ্কারের জন্য সৃজনশীল মানসিকতার মানুষ প্রয়োজন।একসময় দেশসেরা শিক্ষাবিদগণ শিক্ষাক্ষেত্রে কর্ণধার হতেন।বর্তমানে সকলকিছুতেই অন্ধ আনুগত্য প্রত্যাশা করা হয়।এই মন্দ প্রবণতা থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে ;অন্যথায় সকল পদক্ষেপ ভুল স্থানেই পড়বে।

রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বাংলাদেশের সামাজিক বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ

বাংলাদেশের সামাজিক বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ

একটা জাতির  সামাজিক বিচার ব্যবস্থা তার অন্তর্গত সৌন্দর্যের নির্ণায়ক।সামাজিক সুবিচার সমাজের ঐক্যের জন্য অপরিহার্য শর্ত। একটা সমাজ কতটুকু এগুলো বা পেছালো তা সামাজিক বিচার ব্যবস্থা দিয়ে সহজেই    বোঝা যায়।এইক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন অবস্থানে আছে আমরা তা বুঝতে চেষ্টা করবো।
সমাজের বিচারক:
স্বাধীনতার পরে বা আশির দশকেও আমরা দেখেছি যে সমাজের বিভিন্ন ছোটখাটো  সমস্যা সমাজের মোড়লেরাই সমাধান করতেন।তারা অসমর্থ হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার সমাধানের দায়িত্ব নিতেন।এইক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় শিক্ষকও সাহায্য করতেন।
বর্তমানে সমাজে বিচারক হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেন তারা মূলতঃ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা এবং কর্মী।

বিচারের বিষয়ঃ

মারামারি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ, বিয়ে সংক্রান্ত সমস্যা ছিল বিচারের বিষয়।অধিকাংশ ক্ষেত্রে এইসকল বিচার থানা পুলিশ এবং আদালত পর্যন্ত গড়াতো না।কিন্তু বর্তমানে ঐ অবস্থা নেই। সামাজিক বিচার   ব্যবস্থার উপর জনসাধারণের আস্থা নেই।সামন্য কারণে দুই পক্ষে মারামারি হলেও তা থানা পর্যন্ত যায় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা সৃষ্টি করে।

সামাজিক বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণ কী?

বাংলাদেশে সামাজিক বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংষ্কৃতি।বর্তমান রাজনৈতিক সংষ্কৃতিতে অধিকতর ভাল এবং সৎ ব্যক্তি সমাজের নেতা হওয়ার সুযোগ নেই;দেশের জ্ঞানী এবং পণ্ডিত সমাজ তাই মনে করেন।ফলে বর্তমানে   সমাজের নেতা একধরণের লাভজনক পদ।পূর্বে এটি পুরোপুরিভাবে একটি অলাভজনক পদ হিসেবেই বিবেচিত হত।
রাজনৈতিক সংষ্কৃতির কারণে জনসাধারণ দুই-তিন ভাগে বিভক্ত। কখনো তা আওয়ামীলীগ-বিএনপি,কখনো বা স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ,কখনো বা হিন্দু-মুসলমান ;সমাজের চালাক ব্যক্তিরা সুবিধা অনুযায়ী তা ব্যবহার করেন।সমস্যা সমাধান বা বিরোধ মিমাংসার লক্ষ্যে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়না।বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়েই ঘুষ লেন-দেন হয়। জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলা হলেতো আর রেহাই নেই।উভয় পক্ষ নির্ধারিত টাকা জামানত রেখে বিচারের মুখোমুখি হন।এইক্ষেত্রে যেপক্ষ পরাজিত হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে তিনি অনুপস্থিত থাকেন।ফলে উপস্থিত বিচারগণ বিচার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে বাদী বা বিবাদী উভয়েই সুবিচার থেকে বঞ্চিত হয় এবং এক দীর্ঘস্থায়ী ঝামেলার মুখোমুখি হয়।
 অন্যদিকে এখন সমাজপতি বলতে বোঝায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা।তারাই সামাজে বিচার করেন।অধিকাংশ চেয়ারম্যান বিচারের ভার তাদের হাতে ছেড়ে দেন।ফলে আমরা পত্র পত্রিকায় মহিলা শিশু এবং দূর্বলের উপর অত্যাচারের চিত্র দেখতে পাই।বিচারের মজলিশে অনেক মহিলাকে ন্যাড়া করা হচ্ছে,পিটানো হচ্ছে,শিশুদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।

সামাজিক  বিচার ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র:

বাংলাদেশের সামাজিক বিচারের মুখোমুখি যারা হয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে যেকেহ সহজেই এই বিষয়টি বুঝতে পারবেন।এইক্ষেত্রে বাদী-বিবাদী কেহই বিচারে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।দিন কয়েক আগে জনৈক ভুক্তভোগীর সাথে আমার মত বিনিময় হয়েছিল। তিনি পেশায় একজন রিক্সা চালক। তিনি ঘর-ভিটে নিয়ে মামলায় পড়েছিলেন।তারই এক প্রতিবেশি তার কিছু জায়গা জোর পূর্বক দখলে নিতে ছেয়েছিলেন।তিনি অগত্যা চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দাবি করেন।মামলার শুনানির তারিখ পড়ে কিন্তু বিবাদী হাজির হন না।সময় অতিক্রম হয়।চেয়ারম্যান সাহেব উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে যেতে নির্দেশ দেন।বিবাদী শুনানিতে উপস্থিত হন।চেয়ারম্যান সাহেব খুবই ব্যস্ত মানুষ।প্রায় একবছর শেষ হল।তিনি উভয় পক্ষের জন্য দুইজন উকিল নিয়োগের নির্দেশ দেন।তারা দুই জন জমির মালিকানা বিষয়ক দলিলাদি পরীক্ষা করে দেখবেন। অত:পর রায় দিবেন।বিবাদী পক্ষের উকিলকে বিবাদী পক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দিলেন।উকিল রিপোর্ট দিতে  দুইবার সময় নিলেন। এইদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান রিপোর্ট দেবার জন্য তাগাদা দেন।অতঃপর উভয় উকিল ঐক্যমতে উপনীত হলেন।বাদী পক্ষ রায়ে জিতলেন। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট হলেন।বিবাদী পক্ষও অখুশি হলেন।অযথা অনেকগুলো টাকা নষ্ট হল।

এর প্রভাবঃ
সামাজিক বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণে আদালতে মামলার পাহাড় জমে উঠেছে।সামাজিক ঐক্য বিনষ্টি হচ্ছে।মন্দ লোকেরা নেতৃত্বের আসনে বসছে।সরকারি আইনের প্রয়োগে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে।

সামাজিক বিচার ব্যবস্থার ভাল দিকঃ

সামাজিক বিচার ব্যবস্থায় স্বাক্ষী এবং সংগঠিত ঘটনা সামনেই থাকে।ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটানোর সুযোগ থাকেনা।
এখানে বিচারক এবং বিচার প্রার্থী উভয়েই একই  সমাজের লোক।
কেহ চাইলেই অন্যকে ফাঁসাতে পারেনা।যখনি এই সকল মামলা থানাপুলিশ আর আদালতে যায় তখনি বিপত্তির সৃষ্টি হয় এবং বাদী বিবাদী উভয়েই মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মূখে পড়েন।
সমাজের নেতাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রচার ও প্রয়োগ সহজতর হয়।বর্তমানে বাল্যবিয়ে রোধে প্রায়ই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দৌঁড়তে হয়।অথচ এই কাজটি সমাজের নেতারাই সঠিকভাবে করতে সক্ষম।

সামাজিক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উপায়ঃ

আগেই বলেছি বাংলাদেশের বর্তমান  রাজনৈতিক সংস্কৃতিই সামাজিক বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার জন্য দায়ী। তারউপর ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে করার আইন করেছে।ফলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যতীত কেউ সমাজে নেতৃত্ব পাওয়ার সুযোগ নেই।অথচ সমাজে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা যে কোন প্রকার দলীয় পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক। দলীয় মাস্তান আর অভদ্র লোকের ভীড়ে কোন নির্দলীয় ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আসবেনা।এই অবস্থা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অন্যতম প্রতিবন্ধক।
দ্বিতীয়তঃদুর্নীতিগ্রস্থ ভোট পদ্ধতি যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে আসার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচুর  অনিয়ম হয়।যার গায়ের জোর বেশি শেষপর্যন্ত সে-ই জয়ী হয়।অতএব নির্বাচন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।
       সামাজিক সুবিচার সমাজের শৃংখলা এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।সাথে সাথে সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আইনের প্রয়োগও এদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সহজতর হয়।অতএব সামাজিক বিচার ব্যবস্থা উত্তমভাবে প্রতিষ্ঠা করায় সরকারকে এগিয়ে আসা উচিত।
                                                 -----


Printfriendly

Featured Post

জাতি নির্মাণে গল্পযোগ

  জাতি নির্মাণে গল্পযোগ   ১ ।   মানুষ সামাজিক জীব।তারা পরিবার গঠন করে।তারপর সে-ই পরিবার একটি গোষ্ঠীতে রুপান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে একাধিক গোষ...