শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২

একজন মানবিক ডাক্তারের খোঁজে

 

একজন মানবিক ডাক্তারের খোঁজে

মানবিক ডাক্তারের কাহিনী সিনেমায় সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।সেখানে মূলতঃ নৈয়ায়িক কিংবা উচিত্যের বোধকেই রূপায়িত করা হয়।একজন ডাক্তার কেমন হওয়া উচিত তা-ই সিনেমায় দেখানো হয়।একজন মানবিক ডাক্তার বর্বর এবং বদমাশদের মন্দ আচরণেও সেবার মানসিকতা থেকে সরে যান না।ডাক্তারদের জীবনী নিয়ে বহু সিনেমা হয়েছে।সাম্প্রতিক কালের মুন্না ভাই এম বি বি এস সর্ব সাধারণের অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে।তবে বাস্তব কাহিনী হিসেবে কেউ যদি জানতে চাহেন,তবে ইবনে সিনার জীবনের উপর নির্মিত সিনেমা The Physician দেখতে পারেন।মন ছুঁয়ে যাবে।আমরা আমাদের সন্নিহিত এলাকায় মানবিক ডাক্তারের অনুসন্ধান করে থাকি।খুব একটা পাওয়া যায়না।মানবিক ডাক্তার কারো কারো জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই কেউ চাইলেই মানবিক ডাক্তার হয়ে উঠতে পারেনা। শত প্রতিকূলতার মাঝেও অনেকেই নিজস্ব পরিমণ্ডলে মানবিকতার চর্চা করে থাকেন।কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়ায় অনেক মানবিক গুণের চিকিৎসকের জীবনাবেক সংকুচিত হয়ে গিয়েছে।আমরা দেখে থাকি,সরকারি হাসপাতালের বাইরে প্রাইভেট হাসপাতালে অনেক খ্যাতিমান চিকিৎসক রোগী দেখে থাকেন।সেখানে রোগী দেখার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে,সিরিয়াল দেয়া।বহু রোগী আছেন,যারা আর্থিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত। এখানে বিত্তবান এবং বিত্তহীন সমান।রোগীর চেহারা দেখলেই বাস্তব অবস্থা বুঝা যায়।
আমি মনে করি, ডাক্তারকে অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া উচিত।কিন্তু অপারেশন থিয়াটারে ঢুকবার আগে সমুদয় অর্থ পরিশোধর কঠিন শর্ত আরোপের বিষয়ে আরো নমনীয় হওয়ার সুযোগ আছে।
আমরা আমাদের মানবিক ডাক্তারদের জন্য শুভকামনা রাখছি।সামাজিক মাধ্যমে ফলাও করে মানবিক ডাক্তার সম্পর্কে বললে সমাজের নষ্টকীটগুলো তাঁদের পিছে লাগবে।তাই হাত গুটিয়ে নিচ্ছি।আমি আমার সন্নিহিত এলাকায় মাত্র একজন মানবিক ডাক্তারকেই চিনি।কিন্তু চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেকের কাছে যেতে হয়েছে কিংবা হচ্ছে।দোয়া করছি,মানবিক ডাক্তারের রক্তের ধারা কিয়ামত পর্যন্ত যশ বহন করুক এবং তাদের হৃদয় সাগরের মতো বিশাল হোক।২২/১০/২০২২

উচ্চশিক্ষায় ভর্তিযুদ্ধ ও অভিভাবকদের অসহায়ত্ব

 

উচ্চশিক্ষায় ভর্তিযুদ্ধ ও অভিভাবকদের অসহায়ত্ব

উচ্চশিক্ষাস্তরে প্রারম্ভে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রতি বছর শিক্ষক,শিক্ষার্থী,অভিভাবক এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপকদের অনিবার্য সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।চলতি বছর গুচ্ছ পরীক্ষা উক্ত সংকট নিরসনে আমাদেরকে আশাবাদী করেছিলো।কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গবেষণা কিংবা আলোচনা করার সুযোগ হয়নি।ফলে জনমানসে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক আলোচনার স্বার্থে কিছু বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি।
এ বছরের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী বাছাইয়ে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ দক্ষতা দেখিয়েছে এবং কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক শিফটে পরীক্ষা নিয়েছে এবং অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।এতে তারা অধিকতর যোগ্য শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসবার সুযোগ দিয়েছে।তদ্রূপ, বুয়েট দু'ধাপে পরীক্ষার আয়োজন করলেও সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতায় আসবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দু'শিফটে পরীক্ষা নিয়েও সাম্যতার স্বার্থে উভয় শিফট থেকে সমান সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তি হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থ হয়েছে।তারা দুই বা ততোধিক শিফটে পরীক্ষা নিয়েও আনুপাতিক সাম্যতা বজায় রাখেনি।কিন্তু আমরা জানি,প্রশ্নের ভিন্নতা নম্বর অর্জনেও ভিন্নতার কারণ হতে পারে।এতে করে যোগ্যদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পথ সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়েও মানুষের প্রশ্নের শেষ নেই।এক্ষেত্রে প্রশ্নের মানের ভারসাম্য রক্ষা হয়নি বলে অনেকে মনে করেন।
এদিকে গুচ্ছ পরীক্ষার প্রভাবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অতীত ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।গুণগত মানে সেরা এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয় এটি; শিক্ষার্থী বাছাইয়ে নম্বরের সীমায় বাধা পড়ায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে আশাহত করেছে।সাথে সাথে তারাও ভবিষ্যতের কৃষিবিদ,গবেষক কিংবা বিজ্ঞানীদের জন্মদায়িনী হওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে বলে আমার মনে হয়।এজন্য অধিকতর শিক্ষার্থী ভর্তি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া উচিত। এজন্য গত বছরের মতো নুন্যতম জিপিএ কিংবা তুলনীয় নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রবণতা এবং বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত।
শিক্ষার্থীদের প্রবণতাকে লক্ষ্য করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর যথাযথ কৌশল প্রণীত হওয়া উচিত ; একে ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সময়ের দাবি। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ নেভাল ইউনিভার্সিটি উদ্ভাবনী মমনের অধিকারী এক ছাত্রকে সরাসরি ভর্তির সুযোগ দিয়েছে; সাথে বৃত্তিরও ব্যবস্থা করেছে।আমাদের সমস্যাগ্রস্ত মূল্যায়ন পদ্ধতিকে ভিত্তি ধরে যদি আমরা এগুতে চাই, তবে আমরা পথ হারাবো।আমরা মেধাবী এবং প্রতিভাবান খোঁজবার জন্য আসর জমানোর আয়োজন করিনা;অথচ পৃথিবীর বহু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর গণিতের জ্ঞানকেই কয়েকটি বিষয়ের ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে।
পরিশেষে, ভর্তিযুদ্ধ এমনতর যৌক্তিক পথে অগ্রসর হোক, যাতে করে অভিভাবকদের রক্তক্ষরণ না হয়।এমনভাবে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে যাতে সকলেই ভর্তিপরীক্ষার পদ্ধতি এবং কৌশল নিয়ে গর্ব করবে।আমরা সে দিনটির প্রতীক্ষায় আছি।০৬.১১.২০২১

সমাজ ব্যবস্থায় বাস্তবতা

 

সমাজ ব্যবস্থায় বাস্তবতা

এই দুনিয়া এক বিচিত্র স্থান।এখানে ভালো মন্দ একটা আপেক্ষিক বিষয়। ভালো মন্দের নির্ণায়ক সমাজের ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বৃন্দ। তারা তাদের সুবিধামত বিবেচনাশক্তির অনুকূলে নিয়ম জারি করেন।আম জনতা মানতে বাধ্য হয়ে থাকেন।খাস জনতা থাকেন বিভক্ত।
আম জনতার মধ্যে অধিকাংশেরই কোন ক্লাস নেই।তাদের বিবেচনা শক্তি টিকে থাকার সীমার আটকানো থাকে।তারা ভালো বেসে অথবা সুযোগ পেয়ে পরপুরুষ কিংবা পরনারীতে আনন্দ তালাশ করে,উপভোগ করে।তারা ধর্মের ভয়ে ভীত; কিন্তু কামের ভারে নুয়ে থাকে।অতএব,কর্মের জয় হয়।মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে চ্যুত বিবাহ প্রচলিত আছে।ধর্মে কী আছে তা নিয়ে বিতর্ক আছে।কিন্তু সেখানে তা চলমান আছে।এখানে নেই।এখানে কী আছে সে সত্য সবাই জানেন।নিরুদ্দিষ্ট স্বামীর প্রতিক্ষায় থেকে থেকে ধার্মীক নারীও অহরহ পরপুরুষে আসক্ত হচ্ছেন।তাই মাঝে মাঝে ভাঙ্গনের শব্দ শুনি; কখনো কখনো সে সকল ভাঙ্গন বড়ই মর্মান্তিক হচ্ছে।অন্যদিকে,অক্ষম সঙ্গীর সাথে থেকে থেকে অনেক নারীর জীবন দূর্বিষহ হয়।তখন তারাও নিজের পথ খুঁজে নিচ্ছে।এটি হচ্ছে চরম সত্য এবং বাস্তব।ফলে অনেকেই কামের সন্তানে পরিবার গড়ছেন,প্রেমের সন্তানের দেখা নেই।তাদের কাঠামো আছে বটে,কিন্তু অবরণ নেই; আছে দেহ আচ্ছাদিত পোশাক।অথচ এটা নিয়ে তুমুল তর্ক হয়। সুন্দরের জন্য প্রত্যাশিত সমাজ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ; তা নেই।
বর্তমানে,মিডিয়া নিয়ে বহু কথা হচ্ছে।এটি খুব খারাপ!যারা এসকল কথা অধিক প্রচার করেন,তারাও মিডিয়ার আশ্রয়ে করেন।অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর কথা প্রচার করেন।তাদের বলা উচিত, মিডিয়ায় যা ভালো হচ্ছে, তা অনুসরণ করুন।তারা তা বলতে অক্ষম।তারা সকল মানুষকে তাদের ছাঁচে রাখা ধার্মিক বানাতে চাহেন।এখানেই সমস্যা।মানুষের মধ্যে সুপ্ত মানবিক গুণাবলির বিকাশ হলে সমস্যা কেটে যায়।
পরিবর্তনশীল সমাজে মিথষ্ক্রিয়া চলবে এবং বর্তমান বিশ্বে তা বেশি প্রয়োগযোগ্য। মিডিয়ায় ভালো অনেক কিছু হয়।তা খুঁজুন,উপভোগ করুন।অবসরকে আনন্দময় করুন।
১৩/০২/২০২২ 

ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিরোধের ডাক

 মানুষ বিশ্বপ্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান;যেটি অন্য সকল উপাদানকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম।সেজন্য এটাও সত্য যে, মানুষ বিশ্বপ্রকৃতির অন্য সকল উপাদানের সমস্যাও বুঝতে সক্ষম।তবে এই বুঝার ক্ষমতার দ্বার সকলের জন্য অবারিত নয়;কারণ,এই দুয়ারখানি মানুষকে নিজের চেষ্ঠা ও সাধনার দ্বারা খুলতে হয়।এজন্য একজন মানুষ নিজকে বিশ্বজগতের একটি ক্ষুদ্র উপাদান হিসেবে অনুভব করতে হবে।তাহলে বিশ্বপ্রকৃতির কোথাও এতটুকু ক্ষতি হলে তিনি বুঝতে পারবেন এবং তিনি সে ক্ষতি থেকে মুক্তির জন্য মানুষকে আহ্বান করেন, প্রতিবাদ করে থাকেন এবং প্রতিরোধের জন্য বিশ্ববাসীকে আহবান করে থাকেন।কিন্তু বাদবাকি বিশ্বের মনুষ্যকূল তখনও ঘুমিয়ে থাকেন।ফলে আহবান অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের মনে লাগেনা।

আমরা ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিরোধের জন্য সর্বাত্মক ডাক দিচ্ছি।কারণ,এটি আমাদেরকে জাতিকে শূণ্য করে দিচ্ছে।এর প্রভাবে অফিস ,আদালত,প্রশাসনে,শিক্ষায় অযোগ্য ও নষ্টদের সংখ্যা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।আমরা আমাদের ভেতরের মহত্বের বিপরীতে কাজ করে যাচ্ছি কিংবা অনেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি।রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।যেখানে দুর্নীতি দুর্বিনীত হয়,সেখানে কল্যাণ অদৃশ্য হয়ে যায়।প্রার্থনা করি,সে আল্লাহ ঘুষখোরদের কবল থেকে মানুষকে রক্ষা কর।তাদের অন্তর জাগ্রত করো।১৬/০২/২০২২

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২২

 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২২

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।একজন নারী,কখনো মা,কখনো মেয়ে,কখনো স্ত্রী, কখনো বন্ধু।নারীর অধিকার,সমাজে তাঁর অবস্থান,সমাজ বিনির্মানে তাঁর অবস্থান সামগ্রিক দিকের মূল্যায়ন এবং সেই মূল্যায়নের আলোকে নারীর অবস্থানকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দেওয়ার মানসে এই দিনটি পালিত হয়।এই বছরের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছেঃGender equality today for a sustainable tomorrow" অর্থাৎ"টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য" ।
একজন নারী প্রাকৃতিক সত্ত্বায় বিভূষিত মানব। তিনি মানব প্রজন্মের ধারক ও বাহক।নারী যখন মায়ের অবস্থানে থাকেন, তখন তিনি মানব শিশুর ধারক ও বাহকের ভূমিকা পালন করেন।যখন তিনি স্ত্রী হিসেবে থাকেন,তখনও তিনি বহন করেন,ধারন করেন।যখন তিনি বন্ধুর ভূমিকায় থাকেন,তখনও তিনি বহন করেন,ধারন করেন।কিন্তু এই বাহন যন্ত্রণার অনিবার্য উপাদান পুরুষ নামের জীবের অন্যায়ের শিকার হয়েছে; কারণ,তার লাঠির জোর আছে,তার হিংস্রতা আছে।মূলতঃ এই দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে নির্বোধ পুরুষদের সচেতন করা অন্যতম লক্ষ্য এবং নারীও যেনো তাঁর আপন শক্তিকে বুঝতে পারেন তাও অন্যতম উদ্দেশ্য।
সচেতন হতে চাইলে মানুষকে জানতে হয়।কিন্তু আমাদের জানার পরিধি খুবই সংকীর্ণ।বিশ্বের যাবতীয় জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিম ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কিতাব পত্রে নারীদের আইনগত অধিকার সর্বোচ্চ সংরক্ষিত ; যা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত।ফলে অপরিবর্তনীয়।ইসলাম ধর্মের কিছু সঘোষিত রক্ষকও এক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ইসলামের বিরুদ্ধবাদীরা সত্য না জেনে প্রায়ই অসত্য প্রচারে ব্রতী হয়ে থাকেন।ইসলাম নারীকে যতটুকু অধিকার দিয়েছে, তা চর্চিত হলেই ঝামেলার নিরসন ঘটবে।ইসলাম নারীকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সবদিকেই স্বাধীনতা দিয়েছে; তবে এর কাঠামোয় ভারসাম্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
বিশ্ব নারী দিবসে আমি সর্বোচ্চ সন্মানের সাথে স্মরণ করছি, আমার প্রায়াত জননীকে; যিনি প্রায় বছর দুই পূর্বে বিগত হয়েছেন।একমাত্র মানুষ তিনি আমার সকল প্রকার কষ্টের ভার বহন করতে পারতেন,সকল গোপন কথা সংরক্ষণ করতে সক্ষম ছিলেন।তাঁর স্বর্গীয় দীপ্তিময় অবয়ব ছিলো তুলনাহীন। সুকণ্ঠের অধিকারী আমার মা বাড়ির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে বিয়ের গীত গাইতেন।সুন্দর করে কুরআন আবৃত্তি করতেন।মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে আমার ছোট ছেলেকে পাশে বসিয়ে কুরআন পাঠ শুনেছিলেন।তিনি তাঁর কুরআন পাঠের শুদ্ধতা যাচাই করতে চেয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অন্য এক নারীকে শ্রদ্ধার্ঘ দিতে চাই; তিনি হচ্ছেন আমার সন্মানিত শাশুড়ী মা।তাঁর সংগ্রামী জীবন যে কারো জন্য অনুসরণীয়। তিনি মাতৃত্বের গুণে পরিপূর্ণ এক নারী।যিনি চিত্রাঙ্গদার মতো একই সাথে পুরুষ ও নারী।মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে বিধবা হয়েছিলেন।কিন্তু দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নাই।চার সন্তানকে পড়া লেখা করানো, মানবিক গুণসম্পন্ন করার সংগ্রামে রত হন।সামাজিক শত প্রতিকূলতার মাঝেও তার চার সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী করানোর স্বপ্ন সফল হয়।এই ষাটোর্ধ মা বর্তমানে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন।তাঁর মাতৃত্বের ছায়ায় অনেক অসহায় নিরাপদ জীবনের সন্ধান পেয়েছে।অথচ আজ কর্মযজ্ঞে একজন এক স্থানে।তিনি নাতি বুকে নিয়ে একাকীত্ব জয় করছেন।আমি তাঁর দীর্ঘায়ুর জন্য করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছি।
প্রতিটি পুরুষের সাফল্যের পেছনে এক বা একাধিক নারীর প্রভাব বিদ্যমান। অথচ এই অসীম শক্তির মূল্য মানুষ অনুভব করেনা।পুরুষ নারীকে দাবিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু ইতিহাস বলে, নারীকে দাবিয়ে রাখায় নারীই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।নারীর সুপ্ত শক্তি বিশ্বকে আলোকিত করুক ; এই প্রত্যাশা রইলো।
০৮/০৩/২০২২

কয়েক প্রকার শিক্ষক

 

কয়েক প্রকার শিক্ষক

অর্ঘ্য বিশ্বাসের ক্লাসে উপস্থিতির হার কম থাকায় সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি।অবশেষে, সে আত্মহননের মাধ্যমেই তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলো।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বলে কথা! এমনও দেখা যায়,দুর্নীতির মাধ্যমে কিংবা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক শিক্ষকতা করার জন্য অযোগ্য ; এসকল শিক্ষকই নিয়ম মানার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে থাকেন এবং এরা ভীষণ কড়া!যার পাঠদান সাদামাটা, আকর্ষণীয় নয়,তাদের ক্লাসে যাওয়া মানে অযথা সময় নষ্ট করা।তারচেয়ে বরং মুক্তামনির কনিষ্ঠায় আঙুল রেখে সবুজে হারিয়ে যাওয়াই ভালো।অন্ধকূপে হারিয়ে যাওয়া মৃত আত্মাগুলো আমাদের নষ্টালজিক সময়ের মূল্য বুঝতে অক্ষম।তাই প্রতিভাবানদেরকে তারা হত্যা করে ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
বর্তমানে বহু শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হচ্ছে-কেউ শারীরিকভাবে কেউ মানসিকভাবে।হত্যাকারী হিসেবে অগ্রগামি দলে আছেন সন্মানিত শিক্ষকগণ।ছাত্র হত্যাকারী শিক্ষকদের মধ্যে একটা দল আছেন, যারা মূর্খতার সীমা অতিক্রম করতে পারেনি ; কিন্তু তাদের ক্ষমতা অসীম।এরা কেউ জ্ঞান সাধক নন,এরা চাকুরী করেন এবং পেট পুজা করেন,ছেলে-পুলে-পরিবার পালেন।এরা মহান স্বপ্ন লালন করেন না।
আরেকটা দল আছেন,যারা শিক্ষার্থীদের হৈ হুল্লোড়ে বড়ই বিরক্ত হয়ে থাকেন।তারা বাধ্য হলে শিক্ষার্থীদেরকে মাঠে নামতে দেন; অন্যথায় নয়।বিদ্যালয়ের পরিমণ্ডলে লাফালাফি করার সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়।কিন্তু, নির্ভরযোগ্য গবেষণায় দেখা যায়, যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হৈ হুল্লোড় করে,মুক্তভাবে কথা বলতে পারে, তারা পরবর্তীতে অধিকতর সফল হয়ে থাকে।
আরেক দল শিক্ষক আছেন, যারা শিক্ষার্থীদের তীব্রভাবে ভৎসনা করেন, তার চারপাশে একধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেন এবং এতে তিনি একধরনের আত্মতৃপ্তিও খুঁজে পান।এই হলো অবস্থা।এই অবস্থায় ভিন্ন ভিন্নভাবে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন হারিয়ে যায় কিংবা মুক্তি পায়।
ফলে আমাদের সমাজের নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হচ্ছে এই সকল স্কুল পালানো বা খেদানো ছেলে পুলে।এরাই দশ বিশ ক্লাস পাস দেয়নি।কিন্তু এদের জীবন যাপনের পেছনে এক নৈতিক বল আছে।
বৈষম্যযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার পাপে এমনিতে শিশুরা আক্রান্ত; তারসাথে অস্থির, অসুখী ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষক আসন নিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।এমতাবস্থায় কিভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের খুন হওয়া প্রতিরোধ করি?১৫/০৩/২০২২

স্কুলের ড্রেসকোড

স্কুলের ড্রেসকোড
 
স্কুলের ড্রেস কোড শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ;ড্রেস কোডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্যতার মনোভাব সৃষ্টি হয়।বর্তমানে,এই বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।বালকদের মধ্যে প্রায় শতভাগ বিদ্যালয়ের ড্রেসকোড মেনে চলে।মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে এই বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।মেয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশ বিভিন্ন রংয়ের বোরগা পরে স্কুলে আসে।এই সকল মেয়ে শিক্ষার্থীকে শিক্ষকই চিনতে পারেনা।এদের শিখনফল মূল্যায়নে এবং শ্রেণি পাঠদানে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু মেয়ে মন্দ ছেলেদের ফাঁদে পড়ে। তাদের অভিভাবকগণও তাদেরকে কিছু বলতে পারছে না।
বর্তমানে,পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙ্গনের কাল চলছে।বিশেষকরে অনেক পরিবারে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে।এরা হিজাব পরে,মুখোশ পরে ও চশমা পরে।এদেরকে কেউ চিনতে পারে না। এরা অবলীলায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।ড্রেসকোডের ক্ষেত্রে মহিলা-পুরুষ এমন বিধি অনুসরণ করা উচিত যাতে তারা নারী না পুরুষ চেনা যায়।এতে তারা সন্মানিত হবেন। কিন্তু এখন এটি উপেক্ষিত হচ্ছে।
প্রশাসনে,সেনাবাহিনী, পুলিশ,আনসার সব স্থানে নারী সদস্য আছেন; তারা সকলেই সুনির্দিষ্ট পোশাক পরে থাকেন।শুধুমাত্র বিদ্যালয়েই যতো সমস্যা।অথচ,পোশাক একীভূত শিক্ষাকে উৎসাহিত করে।সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো উচিত।
সকল ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি নিন্দনীয় অবস্থাকে আহবান করে থাকে।অতি ধার্মিকতা থাকে হঠাৎ করেই তুরস্কে একদিন বোরকা নিষিদ্ধ হয়েছিল, হাজার হাজার আলেম হত্যার শিকার হয়েছিল,আজান নিষিদ্ধ হয়েছিল।আল্লার ভয় যে জাতির অন্তরে জাগেনি,তারাই অন্যায্য বিধানে মানুষকে বাঁধতে চায়।অন্দরে পাপের ফসল ফলিয়ে বাইরে ধার্মিকের আচরণ চূড়ান্ত মোনাফিকের কাজ।মুনাফিক সফল হয়না।ফলে, আল্লাহ তা'আলা এর বিহিত করেন।মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতারণামূলক আচরণ তাদের ধ্বংসের জন্য দায়ী।প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানদের দেশে ঘুষ বন্ধ হয়না,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুরা বলৎকারের
শিকার হচ্ছে।অথচ,কেউ মার্জিত পোশাক পরার কথা বললে অধার্মিকের অকমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
২২/০৩/২০২২

 

Printfriendly

Featured Post

জাতি নির্মাণে গল্পযোগ

  জাতি নির্মাণে গল্পযোগ   ১ ।   মানুষ সামাজিক জীব।তারা পরিবার গঠন করে।তারপর সে-ই পরিবার একটি গোষ্ঠীতে রুপান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে একাধিক গোষ...