শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২

টাইলস ব্যবসায় ভোক্তা ঠকানোর কলা কৌশল

 

টাইলস ব্যবসায় ভোক্তা ঠকানোর কলা কৌশল

দেশে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় আইন আছে,আইন প্রয়োগের জন্য সরকারি কর্মকর্তা আছে।কিন্তু এসকল কিছু থাকার পরেও ভোক্তা অধিকার কতোটুকু রক্ষিত হচ্ছে? এটা আমাদের জিজ্ঞাসা।এক্ষেত্রে কতিপয় সমস্যা পরিলক্ষিত দেখা যায়।প্রথমতঃ উপজেলা পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ আসবার সুযোগ কম।দ্বিতীয়ত ভোক্তাগণ ঠকলেও এ-র প্রতিকার সম্পর্কে অবহিত নয়।তারা জানেনা কোথায়, কিভাবে অভিযোগ করতে হবে।এজন্য আমারা কিছু সুপারিশ করতে চাই।

ভোক্তাগণ কিভাবে,কোথায় ও কেনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা অনুসন্ধান করা উচিত।কিছু পন্য ভোক্তারা সারা জীবনে একবারই কিনে থাকে।এসকল পন্য ক্রয়ে ভোক্তা অধিকার সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হচ্ছে।এগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে আছেঃ গৃহ নির্মাণ সামগ্রী। আমি গৃহ নির্মাণ সামগ্রীতে ব্যবহৃত বিলাসী পন্য হিসেবে স্বীকৃত টাইলস নিয়ে বলতে যাচ্ছি।এ-ই পন্যে ভোক্তারা প্রতিনিয়তই ঠকে যাচ্ছেন।অধিকাংশ টাইলস ক্রেতা বিক্রেতা কর্তৃক প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে করে থাকেন এবং ঠকেছেন বুঝতে পারলেও তারা কেহ ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দারস্থ হননা।অনেকেই লজ্জা বোধ করেন।অনেকে অফিস পর্যন্ত যাওয়ার উপায়ও জানেন না। ফলে অসাধু বিক্রেতাদের অপকর্ম চলমান আছে।এজন্য ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের উচিত নিজ উদ্যোগে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা।আমি তাদের সদয় জ্ঞাতার্থে টাইলস বিক্রেতাদের অসাধুতার কতিপয় দিক ইঙ্গিত করছি।এটি মূলতঃ মাঠ পর্যায়ে সংঘটিত ঘটনা।
ক)অধিকাংশ টাইলস বিক্রেতাগণ তাদের মেমোতে সুনির্দিষ্ট টাইলসের মাপ, কোড ও কোম্পানির নাম উল্লেখ করেন না।টাইলস মিলি মিটার বা ফুটে বিক্রি করা হয়।এগুলো সব একই মাপের নয়।ফলে প্রতি কার্টনে রক্ষিত টাইলসের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।বিক্রেতারা শুধুমাত্র কার্টন সংখ্যা ও টাকা উল্লেখ করে থাকেন।অনেক সময়ে শুধুমাত্র টাকার মান উল্লেখ করে থাকেন।
খ) বিক্রেতাগণ এক কোম্পানির পন্য দেখিয়ে অন্য কোম্পানির পন্য সরবরাহ করেন।তারা পন্যের কোম্পানির নাম ক্যাশ মেমোতে উল্লেখ করেন না।
গ) বিক্রেতাগণ টাইলস মেস্তরীদের সাথে আঁতাত করে টাইলসের হিসেবে গরমিল করেন।অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা টাইলসের হিসেবে বেশি দেখিয়ে থাকেন এবং টাইলস সরবরাহের সময় বেশি দেখানো টাইলস দোকানেই থেকে যায়। পরে টাকা ভাগাভাগি হয়।
ঘ)বিক্রেতারা কার্টন খুলে নিম্ন মানের পন্য পুনস্থাপন করেন এবং তা সরবরাহ করেন।অর্থাৎ এ গ্রেডের টাকা নিয়ে বি গ্রেডের পন্য/টাইলস হস্থান্তর করেন।একাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা বিষয়টি বিশেষভাবে অবগত। তাদেরকে গোপনে জিজ্ঞাসা করলে তারা সত্য প্রকাশ করবে।
ঙ) এতো কিছুর পরেও কিছু ব্যবসায়ী সততা রক্ষায় প্রতিশ্রুতবদ্ধ। তারাই এসকল অসাধুদের অনাচারের শিকার হচ্ছেন।তাদের ব্যবসা গুটিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এজন্য যথাযত কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান অনাচার রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
ভোক্তাদের প্রতি পরামর্শঃ
টাইলসের সাইজ সম্পর্কে জানুন।বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সাইজের , বিভিন্ন মান/ গ্রেডের টাইলস ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।
আমরা সাধারণ কাস্টমার প্রচলিত (8*12,10*16,12*20,16*16/20*20,12*18 ইত্যাদি)সাইজের যে কোন টাইলস ক্রয় করতে পারি। কিন্তু আমরা কি কখনো হিসাব করে দেখেছি বা দেখি, আপনার ক্রয়কৃত টাইলস কত বক্স/ কত পিচে সঠিক পরিমাণ হবে।
দালালের হাতে দায়িত্ব দিতে সতর্ক থাকুনঃ
আমরা বেশির ভাগ কাস্টমার এবিষয়ে অসচেতন।আপনি হিসেবের ভার খুচরা ব্যাবসায়ী কিংবা টাইলস মিস্তিরির হাতে তুলে দিয়েছেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু খুচরা বিক্রেতা মূল্য পরিশোধের অনুকূলে প্রাপ্য ক্রয়কৃত পণ্য সঠিক মান( গ্রেড ) ও পরিমাণ সরবরাহ করছে না।সাধারণ কাস্টমারদের ঠকিয়ে কেউ কেউ তৃতীয় পক্ষ(দালাল)কে টাকা দিয়ে টাইলস বিক্রি করছে। এসব ব্যবসায়ী ক্রয় রশিদে ক্রয়কৃত পণ্যের সঠিক পরিমাণ ও মান গ্রেড উল্লেখ করছে না।এই দুষ্টু চক্রের ফাঁদে আমরা ক্রেতা সাধারণ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এক্ষেত্রে টাইলস ক্রয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার চাহিদা অনুযায়ী ক্রয়কৃত টাইলসের প্রতিটি আইটেমের ডিটেইলস মেমো তে উল্লেখ আছে কিনা দেখা উচিত। (যেমন : টাইলসের কোড, সাইজ, গ্রেড )এবং টাইলস ক্রয়ের অনুকূলে পণ্য সরবরাহের বিবরণ (যেমন: কত কার্টন ,কত পিচ ইত্যাদি )
ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরজমিনে টাইলস বিক্রেতাদের দোকান পরিদর্শন করলে এ-র সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।তাঁরা বিক্রেতাদের ক্যাশ মেমো, চালান ইত্যাদি যাচাই করে দেখতে পারেন।
একজন ব্যক্তি সারা জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গৃহ নির্মাণ করেন।টাইলস করেন।জীবনে একবার করা কাজ করতে গিয়ে বিক্রেতা কর্তৃক প্রতারিত হন।তাদের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ আমাদের অনুধাবন করা উচিত।
২৯/০৭/২০২২

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের বর্তমান প্রবণতা

 

মানব শিশুর সামাজিকীকরণে মিথষ্ক্রিয়া অতি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ।মজার বিষয় হচ্ছে এটি বিশেষ্য; এ-র বিপরীত শব্দ নেই।আমি পাচ্ছিনা।পারষ্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটা উন্নততর অবস্থায় উপনীত হওয়ার পথকে মিথষ্ক্রিয়া বলে।আমি মিথষ্ক্রিয়াকে মানুষের অভিযোজন সক্ষমতার সাথে সমানুপাতিক সম্পর্কে যুক্ত বলে মনে করি।কারণ,এই প্রক্রিয়ায় মানবজাতি তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে এবং ক্রমাগত উন্নততর অবস্থায় উপনীত হচ্ছে। কিন্তু পারষ্পরিক যোগাযোগের, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরে যদি অবনত অবস্থায় পৌঁছে, তাহলে তাকে কী বলা হবে? এটি আমার জানা নেই।শিক্ষা বিজ্ঞানের পারিভাষিক শব্দ হিসেবে বিবেচনা করলে এটি নিসন্দেহে একটি ইতিবাচক শব্দ এবং প্রত্যাশিত।
লক্ষ্য অভিন্ন হলে কিংবা কাছাকাছি হলে মিথষ্ক্রিয়া সহজতর হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল পরিবেশে এই প্রক্রিয়া চলমান থাকে এবং এ-র মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পারষ্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করে।ভিন্ন মত ও পথকে যুক্তির মানদণ্ডে পরিমাপ করে।অবশেষে, সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।এখন প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য সেখানে যায়? নিশ্চয় তারা নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রজ্ঞার বিস্তারণের মধ্য দিয়ে নতুন জ্ঞান সৃজনের লক্ষ্য নিয়ে যায়।
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির অস্থির অবস্থা দ্বারা সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বিশাল অংশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গ্যাছে।তারা চাকুরী মুখি প্রবণতা দ্বারা প্রবলভাবে আক্রান্ত।অনেকেই শিক্ষা জীবনের এ-ই পর্যায়ে এসে বিসিএস-এর আদলে একটি চাকুরী পাওয়ার আশায় শিক্ষা অর্জন করছে।ফলে উন্নয়নের মানবিক দিক চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।অন্যদিকে, জ্ঞানচর্চার সামষ্টিক শক্তির দিকে তারা দৃষ্টি কেউ দিচ্ছে না।শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশ যুগলপ্রেমের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে ; যা তাদের সামষ্টিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের মহত্ত্ব ও বিশালত্ব অবহেলিত হচ্ছে।তারা প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সাহস ও শক্তি হারিয়েছে।বিশাল প্রকৃতি যে আমাদের মৌলিক শিক্ষালয়- তা আমরা ভুলে যাচ্ছি।
এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক,অভিভাবক সকলেই সচেতন হওয়া উচিত।শিক্ষার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমাদের সাধন পথ রচিত হবে; যাতে আমাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
০৩/০৮/২০২২

আশুরার তাৎপর্য

আড্ডার দিনগুলো---00 আশুরাঃ আড্ডা মানেই গল্প করা;চিৎকার নয়।আড্ডা মানে কিছু প্রশ্ন, কিছু উত্তর। আড্ডা মানে অতৃপ্তির অপনোদন।এটা সময়কে উপভোগ করার উপায়,সময়কে ধরে রাখার কৌশল। প্রায় প্রতিদিন আমাদের আড্ডা জমে।আমরা সঠিক জানিনা কোন বিষয়টি আগামীদিনের আলোচনার বিষয় হবে।তবে,মাঝে মাঝে অনুমান করা যায়।গতকাল ছিলো আশুরা।ফলে আশুরার তাৎপর্য নিয়ে আমাদের মধ্যে উপস্থিত একজন জানতে চাইলো।যিনি জানতে চাইলেন, আমরা তাকে ১ম ব্যক্তি,যিনি উত্তর দিচ্ছেন তাকে আমরা ২য় ব্যক্তি এবং উপস্থিত অন্যজনকে ৩য় ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে রাখলাম। ২য় ব্যক্তি বলতে লাগলেন।আশুরা মূলত উদ্ যাপনের দিন,শুকরিয়া আদায়ের দিন।আল্লাহর রাসূল(সাঃ) এ-ই দিনকে উদযাপনই করেছেন।তিনি নিজে এ-ই দিন উপলক্ষে দু'দিন রোজা রেখেছেন।পবিত্র কুরআনে বর্ণিত মুসার নেতৃত্বে ইহুদীরা এ-ই দিন ফিরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিলো বলে মনে করা হয়।ইসরাইলী তথ্যসূত্র থেকে এটি জানা যায় এবং এ-র সপক্ষে সহীহ হাদিস রয়েছে।তবে অনেক ইসলামি পণ্ডিত ইহুদী, নাসারাদের তথ্যের সূত্র অনুসরণ করে এ-ই দিনের মহত্ব ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলে থাকেন। আশুরা মাল্টি কালচারাল ও মাল্টি-রিলিজিয়াস ধরনের উৎসব। এ-ই দিন ইহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম এ-ই তিন ধর্মের মানুষ পালন করে থাকে।তবে মুসলমানদের মধ্যে এ-ই দিনকে উদযাপনের চেয়ে শোকের মাতমের মাধ্যমেই বেশি স্মরণ করা হয়।মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ, সংঘাত ও যুদ্ধ এ-ই দিনকে শোক ও দুঃখের দিন হিসেবে উপস্থিত করেছে।হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন(রাঃ) ও তাঁর পরিবারের সত্তরজন মানুষ (নারী ও শিশু) এজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন। এজন্য, মুসলমানদের মধ্যে শিয়া সম্প্রদায় তাজিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সহমর্মিতা ও শোক প্রকাশ করে,সূন্নী সম্প্রদায় মিল্লাদ মাহফিলের আয়োজন করে।কিন্তু আশুরার মূল শিক্ষা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়না। ইতিহাসের অংশ হিসেবে শুধুমাত্র মুসা(আঃ) ও ফিরাউনের কাহিনী ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করলে আশুরার আলোচনা পূর্ণতা পায়।কিন্তু আলোচকদের আলোচনায় কাহিনী থেকে শিক্ষা লাভের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। মুসা(সাঃ) সাথে ফিরাউনের ক্ষমতার দ্বন্ধ ছিলো না।তার বিনীত নিবেদন ছিলোঃআল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ফিরাউনকে সতর্ক করা।ইজরায়েলের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়া, তাকে পবিত্র হওয়ার জন্য নম্রভাবে বলা,সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা।মুসা ফিরাউনের রাজত্বের অংশীদার হতে চায়নি।এ-ই সেই ফিরাউন যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বহু বর্ণনা আছে।এখন প্রশ্ন হচ্ছে,আশুরার আলোচনায় আমাদের আলোচনায় আসা উচিত আমরা কোন ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করছি; মুসা না ফিরাউন? ফিরাউন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ৭৫ স্থানে উল্লেখ আছে।ফিরাউন বনী ইজরাইলদের ছেলেদেরকে হত্যা করতো,তাদেরকে কঠিন কষ্ট দিতো,নারীদেরকে বাঁচিয়ে রাখতো ; তাদেরকে ভয়ানক নির্যাতন করতো।সে নিজেকে যোগ্যতম ও একমাত্র শাসক হওয়ার অধিকারী হিসেবে মনে করতো।সে ছিলো খুবই অহংকারী।শাসক নামে সে ছিলো একজন জালিম।সে মিসর বাসীকে সকল প্রকার মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলো। এখন আমাদের মধ্যেও ফিরাউনী বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। এমন যদি হয়,তাহলে আমরা কিভাবে মানবিক সমাজ নির্মান করতে সমর্থ হবো? মানবিক সমাজ নির্মান করতে হলে মুসার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করা ছাড়া উপায় নেই। আশুরার শিক্ষা হচ্ছে এ-ই যে,আমরা মুসার কর্মপন্থা অনুসরণ করতে হবে।ন্যায়যুদ্ধে শহীদ হওয়া হজরত হোসাইন(রাঃ) -এর পথই অনুসরণ করতে হবে।শোককে শক্তিতে রুপান্তরের জন্য এ-ই দুজনের বৈশিষ্ট্য অর্জন করা আবশ্যক।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অভিযোজিত কালের কথন-৩

 অভিযোজিত কালের  কথন-৩

সারাটা দিন তাকিয়ে থাকি বাহির পথে-কখন তাহার

 সময় হবে বসবে কাছে। একটু খানি দেখতে খুবই

 ইচ্ছে হয়। বুকটা বড়ই ফাঁকা বিশাল দুরের কোন  

দ্বীপের মতো জনবিরল।তসবি দানা  হাতে নিয়ে 

আল্লাহ জপি-দোয়া করি একটু তারে বিরাম দাও

বসতে পাশে-দুটো কথা বলবে শুধু হেঁসে হেঁসে।

তার যে ভারি ক্ষণের অভাব একটুখানি সময় দেবার।

 ঘরের কোনে পড়ে থাকি ভারী পাথর।হাটুতে শূল, 

কোমরে শূল কতশত ব্যামোরা সব বাঁধলো বাসা-

শরীরখানার  ভাজে ভাজে নিরানন্দের সূত্রসকল 

কার্যরত। সকাল দুপুর রাত্রি আসে-তাদের মতো।

ঔষধ খাওয়ার সূচি আছে যথারীতি-ঔষধ প্রায়ই

পাইনা খুঁজে হাতের কাছে। ভুলো মনা ছেলে আমার 

ভুলার বাতিক। কতো কাজে ব্যস্ত থাকে, গভীরতম 

অবসাদে ঘরে ফিরে। কেমনে বলি বাছা আমার

কঠিন বোঝা বয়ে চলে!  দু'টো শিশু মানুষ করা

নয়তো সোজা। কেমন করে ছয়টি ছেলে দুটো মেয়ে

উঠলো বেড়ে। এখন ভেবে ভয়েই মরি কেমন করে

সময় গেলো! এখন এরা দু'জন নিয়ে পাগল প্রায় 

দিশেহারা। আমি বুড়ি একটি কোনে একাকিনী

বসে থাকি।নাড়ি ছেঁড়া ধনেরা সব বনবাসী অচিন গাঁয়।

মাঝে মাঝে মোবাইলে খবর নিয়ে জানান দেয় ;

আজকে শুধু অকারণে কান্না আসে-কাঁদতে হয়।

দূরে দূরে ছড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়ে-একটি নজর

দেখতে তাদের ইচ্ছে হয়। মরার আগে এমন খায়েশ

পয়দা হয়-মা-দাদিরা বলে গেছেন মিথ্যা নয়।

জানালাতে তাকিয়ে থাকি শান্তিময়। নাতি-পুতি

কারো মোটেই দেখা নেই।সারাটা দিন নাতি-নাতনি

ব্যস্ত থাকে।স্কুল-কলেজ হুজুর-গুরু আসে যায়।

আমার মতো তাদের দু'য়ের বন্দী জীবন।মোটাফ্রেমের 

চশমা চোখে টিপাটিপি-এটাই তাদের বিনোদনে অন্যতম

 প্রাসঙ্গিক। জানলাতে হলুদ পাখি আসে একা, 

 অনুবর্তী পাশে বসে,টুস্কি মারে- চপল মেজাজ-

 আমি চেয়ে চেয়ে দেখি হেঁসে ফেলি আচমকা।


 আমি একা একটি কোনে পড়ে থাকি। কষ্ট লালন

করা নাকি একটা নেশা। না হয় দেখো গর্ভবতীর 

কষ্ট নিয়ে ক্ষণের হিসেব চালিয়ে যাওয়া; ফলবতীর 

নেশায় মেতে যমের সাথে লড়ে যাওয়া। হায়রে জীবন!

এখন কেন দেহশূলের একটু আঘাত সইতে ভারি 

কষ্ট হয়!প্রৌঢ়া দেহ পুড়ে পুড়ে ভস্ম হল-

মন যে আজো জীবনেরে খুঁজে ফিরে অকারণে।

বাতাবিলেবুর দেহের মতো কুঁচকে যাওয়া শরীরখানা-

কবে কখন মুক্তি পাবে আল্লাহ মালুম।২৯/০৯/২০২০


শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অভিযোজিত কালের কথন-১

 অভিযোজিত কালের কথন-১

করোনা কালে সময় কাটেনা মোটেই। মাঝে মাঝে কল্পনার সীমান্তে চলে যাই যেনো। তারপর থেমে যাই। প্রলম্বিত  ইচ্ছেগাছে ফুল ফোটাতে চাই ; সরু বারান্দার এক কোনে বসি চুপচাপ। দেশলাইয়ের কাঠি জ্বলে ঘন ঘন। ওপারের অদূরে বারান্দায় কেউ এসেছিল-তারপর চলেগ্যাছে আপনার কাজে  ;শুধু শাদা রশিতে ঝুলছে লাল-সবুজ কাঁচুলিরা, নীল পেন্টি, ঘি-রাঙা সালোয়ার, খয়েরী ওড়না।তাই বলে আমি কারো বুকের মাপ নিয়ে ভাবিনা।সিগারেটে টান দিই নিরুদ্বেগ। বিবর্ণ পেন্টির আলোকচ্ছটায়  শিহরণ জাগেনা মনে কিংবা শুকনো  জিহবা নিঃসরিত  নোনা লালায় ভিজেনা। সহজাত প্রাকৃতিক জীবন আমাদের কেটে কেটে যায়, শরীরের ভাজে ভাজে নিমিশেই মিশে যায় কাঁচুলির  সূতারাশি, পেন্টিরাও হারিয়ে যায় অধরা কোন অদৃশ্যলোকে। সহজাত জীবন আমাদের  খাঁজ কেটে কেটে এগুতে হয় সন্তর্পণে ; পার্বতীর সিক্ত বসন পিচ্ছিল ভারি;তাই,ভাঁজ ছুঁয়ে ছুয়ে নুয়ে নুয়ে   আরোহী না হলে খাদে পড়ে নিঃশেষ হতে হবে অকস্মাৎ নির্ঘাৎ।   

২৫.০৯.২০২০ 

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০

মহামিলনের পরে নেতা যা বলেছিলেন

 মহামিলনের পরে নেতা যা বলেছিলেন 

বঙ্গবন্ধু লন্ডন হয়ে ভারতে অবতরণ করেন। ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয় সেদিন। তিনি ভাষণ দেন ; তিনি দরদী ভারতনেতা ইন্দিরাজী   আর ভারতবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাথে সাথে তার সদ্য স্বাধীন দেশ কোন নীতিতে চলবে সে নির্দেশনাও দেন।তারপর ঢাকায় আসেন ;সেখানেও বক্তব্য রাখেন। অগণিত  মানুষের মিলন মেলায় তাঁর আবেগের পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে।  কবির ভাষায় সে কথামালার প্রকাশ এভাবে হয়েছিল।
কবিতাঃ মহামিলনের পরে নেতা যা বলেছিলেন    কবিঃগোলাম কিবরিয়া
আবৃত্তিঃ@ Shahida Mukta

আমি ফিরিয়াছি তোমার পলির আদর মাখানো রঙে
আমি ফিরিয়াছি আমার ক্রন্দসী পোড়ানো মাটির বঙ্গে
একদা, আমার বাংলায় মেলেছিল থাবা  পাক ঘাতকের  হাত
আজকে বাংলার কাটিয়া গিয়াছে দুই দশকের রাত।
আজকে আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পুরনের দিন
আজকে বাংলার আকাশে বিজয় নিশান পৎ পৎ উড্ডীন।
আর কিছু পাই বা না পাই
কোন দুঃখ কোন খেদ নাই।
আমি ফিরিয়াছি আমার সাহসী কোটি বাঙালির বুকে
ভয়কে যাহারা করিয়াছে জয় মৃত্যুকে দিয়েছে রুখে। 
আমি ফিরিয়াছি  দূর্মর গতির পদ্মা-মেঘনার চরে
আমি ফিরিয়াছি তিরিশ লক্ষ শহীদ সেনার ঘরে।
আর কিছু পাই বা না পাই
কোন দুঃখ কোনো খেদ নাই।
আমি, শতবার গেছি কয়েদখানায় অভূক্ত ছিলাম কতো
তবু, আপোষ করিনি জুলুমের সাথে হইনি কখনো নত।
ফাঁসির দড়ির মুখোমুখি হয়ে বলেছি উন্নত বোলে
আমার লাশটি পাঠাইয়া দিও বাংলা মায়ের কোলে।
আজাদীর ইতিহাসে লেখা রবে মোর আত্মবলিদান
লক্ষ বাঙালির শোনিত ধারায় মিশে যাবে এই প্রাণ।
এইটুকু রবে সান্ত্বনা ও সুখ আর কিছু নাহি পাই
কোনো কষ্ট কোন অসন্তোষ কোনো পিছুটান নাই।

এবার, গণতন্ত্রের ছায়ায় সৃষ্টি  হবে সমাজতন্ত্রের ভীত
লুটেরার দিন শেষ হয়ে গ্যাছে বুঝে নিক দাম্ভিক ;
ধর্মে-বর্ণে ভাগ হবে না সকলেই বাংলার সন্তান
সাম্যবাদে এক রবে মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান।
বাঙালি চাকমা মুরং খাসিয়া সাঁওতাল মনিপুরী
সমঅধিকারে পাশাপাশি রবে থাকবেনা  বাহাদুরি।
কৃষক শ্রমিক তাঁতি জেলে সকলের  রক্ত ও ঘামে
বিদূরিত  হবে সকল অভাব নবতর সংগ্রামে ।
যেদিন বাংলা মাথা উচু করে দাঁড়াবে পৃথিবীমাঝে
সেদিন আমার স্বপ্নের সারথি থামবে নতুন কাজে।
আর কিছু পাই বা না পাই
কোন দুঃখ কোন খেদ নেই।
২৩. ০১.২০২০




রবিবার, ১ মার্চ, ২০২০

প্রিয় অবাঞ্চিত কেশগুচ্ছ সমাচার

  প্রিয় অবাঞ্চিত কেশগুচ্ছ সমাচার 


তুমি অবাঞ্চিত কেশগুচ্ছ লালন করছো বস্রতলে, অথচ পুত - পবিত্র থাকার শপথে  আলিঙ্গনে আবদ্ধ হতে চাও। এমন দ্বৈত আচরণে কেমন করে তোমার সয়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনা,তুমিও কেমন বদলে গেলে ;অথচ তোমাতেই তো কিছুটা ভরসা ছিলো।তোমার সিদ্ধছায়ায় ঘুরবো-মুক্তবিবেক,বিশুদ্ধ বাতাশ পাবো ;তাই  রক্তে উচ্ছ্বাস আনে  নৃত্যরত কিন্নরীদলে। কিন্তু  বগলদাবা ছোরাধারী গুপ্তঘাতকের মতোই তুমি নিশ্চুপ হয়ে আছো  ; অবাঞ্চিত কেশগুচ্ছ উপড়ে ফেলায় তোমার কেনো এতো দ্বিধা? কেনো এতো ভয়?  তবেতো আমি চন্দন চর্চিত নব নন্দনে এবার   অভিসারে যেতেই হবে ।
০১.০৩.২০২০

Printfriendly

Featured Post

জাতি নির্মাণে গল্পযোগ

  জাতি নির্মাণে গল্পযোগ   ১ ।   মানুষ সামাজিক জীব।তারা পরিবার গঠন করে।তারপর সে-ই পরিবার একটি গোষ্ঠীতে রুপান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে একাধিক গোষ...