শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২

ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিরোধের ডাক

 মানুষ বিশ্বপ্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান;যেটি অন্য সকল উপাদানকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম।সেজন্য এটাও সত্য যে, মানুষ বিশ্বপ্রকৃতির অন্য সকল উপাদানের সমস্যাও বুঝতে সক্ষম।তবে এই বুঝার ক্ষমতার দ্বার সকলের জন্য অবারিত নয়;কারণ,এই দুয়ারখানি মানুষকে নিজের চেষ্ঠা ও সাধনার দ্বারা খুলতে হয়।এজন্য একজন মানুষ নিজকে বিশ্বজগতের একটি ক্ষুদ্র উপাদান হিসেবে অনুভব করতে হবে।তাহলে বিশ্বপ্রকৃতির কোথাও এতটুকু ক্ষতি হলে তিনি বুঝতে পারবেন এবং তিনি সে ক্ষতি থেকে মুক্তির জন্য মানুষকে আহ্বান করেন, প্রতিবাদ করে থাকেন এবং প্রতিরোধের জন্য বিশ্ববাসীকে আহবান করে থাকেন।কিন্তু বাদবাকি বিশ্বের মনুষ্যকূল তখনও ঘুমিয়ে থাকেন।ফলে আহবান অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের মনে লাগেনা।

আমরা ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিরোধের জন্য সর্বাত্মক ডাক দিচ্ছি।কারণ,এটি আমাদেরকে জাতিকে শূণ্য করে দিচ্ছে।এর প্রভাবে অফিস ,আদালত,প্রশাসনে,শিক্ষায় অযোগ্য ও নষ্টদের সংখ্যা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।আমরা আমাদের ভেতরের মহত্বের বিপরীতে কাজ করে যাচ্ছি কিংবা অনেকে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি।রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।যেখানে দুর্নীতি দুর্বিনীত হয়,সেখানে কল্যাণ অদৃশ্য হয়ে যায়।প্রার্থনা করি,সে আল্লাহ ঘুষখোরদের কবল থেকে মানুষকে রক্ষা কর।তাদের অন্তর জাগ্রত করো।১৬/০২/২০২২

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২২

 

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২২

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।একজন নারী,কখনো মা,কখনো মেয়ে,কখনো স্ত্রী, কখনো বন্ধু।নারীর অধিকার,সমাজে তাঁর অবস্থান,সমাজ বিনির্মানে তাঁর অবস্থান সামগ্রিক দিকের মূল্যায়ন এবং সেই মূল্যায়নের আলোকে নারীর অবস্থানকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দেওয়ার মানসে এই দিনটি পালিত হয়।এই বছরের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছেঃGender equality today for a sustainable tomorrow" অর্থাৎ"টেকসই আগামীর জন্য, জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য" ।
একজন নারী প্রাকৃতিক সত্ত্বায় বিভূষিত মানব। তিনি মানব প্রজন্মের ধারক ও বাহক।নারী যখন মায়ের অবস্থানে থাকেন, তখন তিনি মানব শিশুর ধারক ও বাহকের ভূমিকা পালন করেন।যখন তিনি স্ত্রী হিসেবে থাকেন,তখনও তিনি বহন করেন,ধারন করেন।যখন তিনি বন্ধুর ভূমিকায় থাকেন,তখনও তিনি বহন করেন,ধারন করেন।কিন্তু এই বাহন যন্ত্রণার অনিবার্য উপাদান পুরুষ নামের জীবের অন্যায়ের শিকার হয়েছে; কারণ,তার লাঠির জোর আছে,তার হিংস্রতা আছে।মূলতঃ এই দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে নির্বোধ পুরুষদের সচেতন করা অন্যতম লক্ষ্য এবং নারীও যেনো তাঁর আপন শক্তিকে বুঝতে পারেন তাও অন্যতম উদ্দেশ্য।
সচেতন হতে চাইলে মানুষকে জানতে হয়।কিন্তু আমাদের জানার পরিধি খুবই সংকীর্ণ।বিশ্বের যাবতীয় জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিম ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কিতাব পত্রে নারীদের আইনগত অধিকার সর্বোচ্চ সংরক্ষিত ; যা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত।ফলে অপরিবর্তনীয়।ইসলাম ধর্মের কিছু সঘোষিত রক্ষকও এক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ইসলামের বিরুদ্ধবাদীরা সত্য না জেনে প্রায়ই অসত্য প্রচারে ব্রতী হয়ে থাকেন।ইসলাম নারীকে যতটুকু অধিকার দিয়েছে, তা চর্চিত হলেই ঝামেলার নিরসন ঘটবে।ইসলাম নারীকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সবদিকেই স্বাধীনতা দিয়েছে; তবে এর কাঠামোয় ভারসাম্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
বিশ্ব নারী দিবসে আমি সর্বোচ্চ সন্মানের সাথে স্মরণ করছি, আমার প্রায়াত জননীকে; যিনি প্রায় বছর দুই পূর্বে বিগত হয়েছেন।একমাত্র মানুষ তিনি আমার সকল প্রকার কষ্টের ভার বহন করতে পারতেন,সকল গোপন কথা সংরক্ষণ করতে সক্ষম ছিলেন।তাঁর স্বর্গীয় দীপ্তিময় অবয়ব ছিলো তুলনাহীন। সুকণ্ঠের অধিকারী আমার মা বাড়ির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে বিয়ের গীত গাইতেন।সুন্দর করে কুরআন আবৃত্তি করতেন।মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে আমার ছোট ছেলেকে পাশে বসিয়ে কুরআন পাঠ শুনেছিলেন।তিনি তাঁর কুরআন পাঠের শুদ্ধতা যাচাই করতে চেয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অন্য এক নারীকে শ্রদ্ধার্ঘ দিতে চাই; তিনি হচ্ছেন আমার সন্মানিত শাশুড়ী মা।তাঁর সংগ্রামী জীবন যে কারো জন্য অনুসরণীয়। তিনি মাতৃত্বের গুণে পরিপূর্ণ এক নারী।যিনি চিত্রাঙ্গদার মতো একই সাথে পুরুষ ও নারী।মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে বিধবা হয়েছিলেন।কিন্তু দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নাই।চার সন্তানকে পড়া লেখা করানো, মানবিক গুণসম্পন্ন করার সংগ্রামে রত হন।সামাজিক শত প্রতিকূলতার মাঝেও তার চার সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী করানোর স্বপ্ন সফল হয়।এই ষাটোর্ধ মা বর্তমানে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন।তাঁর মাতৃত্বের ছায়ায় অনেক অসহায় নিরাপদ জীবনের সন্ধান পেয়েছে।অথচ আজ কর্মযজ্ঞে একজন এক স্থানে।তিনি নাতি বুকে নিয়ে একাকীত্ব জয় করছেন।আমি তাঁর দীর্ঘায়ুর জন্য করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছি।
প্রতিটি পুরুষের সাফল্যের পেছনে এক বা একাধিক নারীর প্রভাব বিদ্যমান। অথচ এই অসীম শক্তির মূল্য মানুষ অনুভব করেনা।পুরুষ নারীকে দাবিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু ইতিহাস বলে, নারীকে দাবিয়ে রাখায় নারীই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।নারীর সুপ্ত শক্তি বিশ্বকে আলোকিত করুক ; এই প্রত্যাশা রইলো।
০৮/০৩/২০২২

কয়েক প্রকার শিক্ষক

 

কয়েক প্রকার শিক্ষক

অর্ঘ্য বিশ্বাসের ক্লাসে উপস্থিতির হার কম থাকায় সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি।অবশেষে, সে আত্মহননের মাধ্যমেই তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলো।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বলে কথা! এমনও দেখা যায়,দুর্নীতির মাধ্যমে কিংবা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক শিক্ষকতা করার জন্য অযোগ্য ; এসকল শিক্ষকই নিয়ম মানার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে থাকেন এবং এরা ভীষণ কড়া!যার পাঠদান সাদামাটা, আকর্ষণীয় নয়,তাদের ক্লাসে যাওয়া মানে অযথা সময় নষ্ট করা।তারচেয়ে বরং মুক্তামনির কনিষ্ঠায় আঙুল রেখে সবুজে হারিয়ে যাওয়াই ভালো।অন্ধকূপে হারিয়ে যাওয়া মৃত আত্মাগুলো আমাদের নষ্টালজিক সময়ের মূল্য বুঝতে অক্ষম।তাই প্রতিভাবানদেরকে তারা হত্যা করে ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
বর্তমানে বহু শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হচ্ছে-কেউ শারীরিকভাবে কেউ মানসিকভাবে।হত্যাকারী হিসেবে অগ্রগামি দলে আছেন সন্মানিত শিক্ষকগণ।ছাত্র হত্যাকারী শিক্ষকদের মধ্যে একটা দল আছেন, যারা মূর্খতার সীমা অতিক্রম করতে পারেনি ; কিন্তু তাদের ক্ষমতা অসীম।এরা কেউ জ্ঞান সাধক নন,এরা চাকুরী করেন এবং পেট পুজা করেন,ছেলে-পুলে-পরিবার পালেন।এরা মহান স্বপ্ন লালন করেন না।
আরেকটা দল আছেন,যারা শিক্ষার্থীদের হৈ হুল্লোড়ে বড়ই বিরক্ত হয়ে থাকেন।তারা বাধ্য হলে শিক্ষার্থীদেরকে মাঠে নামতে দেন; অন্যথায় নয়।বিদ্যালয়ের পরিমণ্ডলে লাফালাফি করার সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়।কিন্তু, নির্ভরযোগ্য গবেষণায় দেখা যায়, যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হৈ হুল্লোড় করে,মুক্তভাবে কথা বলতে পারে, তারা পরবর্তীতে অধিকতর সফল হয়ে থাকে।
আরেক দল শিক্ষক আছেন, যারা শিক্ষার্থীদের তীব্রভাবে ভৎসনা করেন, তার চারপাশে একধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেন এবং এতে তিনি একধরনের আত্মতৃপ্তিও খুঁজে পান।এই হলো অবস্থা।এই অবস্থায় ভিন্ন ভিন্নভাবে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন হারিয়ে যায় কিংবা মুক্তি পায়।
ফলে আমাদের সমাজের নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হচ্ছে এই সকল স্কুল পালানো বা খেদানো ছেলে পুলে।এরাই দশ বিশ ক্লাস পাস দেয়নি।কিন্তু এদের জীবন যাপনের পেছনে এক নৈতিক বল আছে।
বৈষম্যযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার পাপে এমনিতে শিশুরা আক্রান্ত; তারসাথে অস্থির, অসুখী ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষক আসন নিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।এমতাবস্থায় কিভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের খুন হওয়া প্রতিরোধ করি?১৫/০৩/২০২২

স্কুলের ড্রেসকোড

স্কুলের ড্রেসকোড
 
স্কুলের ড্রেস কোড শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ;ড্রেস কোডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্যতার মনোভাব সৃষ্টি হয়।বর্তমানে,এই বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।বালকদের মধ্যে প্রায় শতভাগ বিদ্যালয়ের ড্রেসকোড মেনে চলে।মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে এই বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।মেয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশ বিভিন্ন রংয়ের বোরগা পরে স্কুলে আসে।এই সকল মেয়ে শিক্ষার্থীকে শিক্ষকই চিনতে পারেনা।এদের শিখনফল মূল্যায়নে এবং শ্রেণি পাঠদানে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু মেয়ে মন্দ ছেলেদের ফাঁদে পড়ে। তাদের অভিভাবকগণও তাদেরকে কিছু বলতে পারছে না।
বর্তমানে,পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙ্গনের কাল চলছে।বিশেষকরে অনেক পরিবারে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে।এরা হিজাব পরে,মুখোশ পরে ও চশমা পরে।এদেরকে কেউ চিনতে পারে না। এরা অবলীলায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।ড্রেসকোডের ক্ষেত্রে মহিলা-পুরুষ এমন বিধি অনুসরণ করা উচিত যাতে তারা নারী না পুরুষ চেনা যায়।এতে তারা সন্মানিত হবেন। কিন্তু এখন এটি উপেক্ষিত হচ্ছে।
প্রশাসনে,সেনাবাহিনী, পুলিশ,আনসার সব স্থানে নারী সদস্য আছেন; তারা সকলেই সুনির্দিষ্ট পোশাক পরে থাকেন।শুধুমাত্র বিদ্যালয়েই যতো সমস্যা।অথচ,পোশাক একীভূত শিক্ষাকে উৎসাহিত করে।সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো উচিত।
সকল ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি নিন্দনীয় অবস্থাকে আহবান করে থাকে।অতি ধার্মিকতা থাকে হঠাৎ করেই তুরস্কে একদিন বোরকা নিষিদ্ধ হয়েছিল, হাজার হাজার আলেম হত্যার শিকার হয়েছিল,আজান নিষিদ্ধ হয়েছিল।আল্লার ভয় যে জাতির অন্তরে জাগেনি,তারাই অন্যায্য বিধানে মানুষকে বাঁধতে চায়।অন্দরে পাপের ফসল ফলিয়ে বাইরে ধার্মিকের আচরণ চূড়ান্ত মোনাফিকের কাজ।মুনাফিক সফল হয়না।ফলে, আল্লাহ তা'আলা এর বিহিত করেন।মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতারণামূলক আচরণ তাদের ধ্বংসের জন্য দায়ী।প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানদের দেশে ঘুষ বন্ধ হয়না,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুরা বলৎকারের
শিকার হচ্ছে।অথচ,কেউ মার্জিত পোশাক পরার কথা বললে অধার্মিকের অকমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
২২/০৩/২০২২

 

এনসিটিবি বনাম মাউসি

 

এনসিটিবি বনাম মাউসি

এনসিটিবি শ্রেণিভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ করে থাকে;তাদের একদল গবেষক আছেন।তারা পাঠ্যপুস্তক পাঠদানের জন্য শিক্ষকের জন্য সহায়ক পুস্তক প্রণয়ন করে থাকে।সাথে সাথে শ্রেণিতে পাঠ উপস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠপরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে ; যে পরিকল্পনায় শ্রেণি পঠন পাঠনের সময়ও নির্ধারণ করে থাকে।অন্যদিকে, মাউসি'র মূল কাজ হচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন চালানো ; তাদের চেয়ার ক্রমাগত পরিবর্তন হয়,যে টুকু তারা করে থাকেন- তা হলো ক্ষমতা প্রয়োগের চর্চা; তাদের গবেষণা করার সুযোগ নেই।
 
যেহেতু, এন সি টি বি'র ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ সীমিত, সেহেতু তাদের কথা কে শুনবে?রমজানে কিভাবে, কয়টি পিরিয়ড চলবে এ নিয়ে মাউসি একটি নির্দেশনা দিয়েছে ; যেখানে তারা বলেছেন,২১০ মিনিটে পাঁচটি পিরিয়ড় চলবে।তাহলে প্রতি পরিয়ড়ের বিস্তার হচ্ছে ৪২ মিনিট। কিন্তু প্রথম পিরিয়ড যদি একঘন্টা হয় তাহলে বাকিগুলোর সময়কাল হবে ৩৭.৫ মিনিট করে।অন্যদিকে, যদি শিক্ষকদেরকে এন সি টি বি'র বিশেষজ্ঞ দলের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়,তাহলে প্রথম পিরিয়ডকে একঘন্টা ধরতে হয় এবং বাকি পিরিয়ড়ের প্রতিটি হওয়ার কথা ৫০ মিনিট করে।আমরা দেখেছি,এই সময়কালে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন এবং একক কাজ,দ্বৈত কাজ ও গ্রুপভিত্তিক কাজে যুক্ত করা যায়।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের সময় শ্রেণি পঠন পাঠনের যে পরিকল্পনাকে সামনে রেখে পরিচালনা করা হয়,সেগুলো এন সি টি বি'র নির্দেশনার আলোকেই করা হয়।কিন্তু মাউসি কেমন করে প্রশিক্ষণের সাথে দ্বান্দ্বিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে- তা বোধগম্য হচ্ছেনা।
মাউসি শিক্ষণ শিখানো বিষয়ে যে কোন নির্দেশনা প্রদানের আগে নির্ভরযোগ্য গবেষণা অনুসরণ করা উচিত; এটি আমরা কল্যাণকর মনে করছি।কয়টা পিরিয়ড চলবে সে নির্দেশনা না দিয়ে কয়টা পর্যন্ত চলবে-তা-ই বলা উচিত।০১/০৪/২০২২

ন্যায্যতা ও অধিকার

 ন্যায্যতা ও অধিকার

মানুষের মৌলিক অধিকার ও সম অধিকার দুটো ভিন্ন বিষয়।মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে গেলে সম অধিকারের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়; কিন্তু এটি ব্যক্তি নিরপেক্ষ বিষয়।ফলে অযোগ্য ব্যক্তি যখন সম-অধিকার বাস্তবায়নের দাবী তোলে তখন সে তার অযোগ্যতাকে উপেক্ষা করার ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দেয়।ন্যায্যতার অনুকূলে অধিকার বাস্তবায়ন করা হলেই সম-অধিকারের দাবী পূর্ণতা পায়। সমাজে কাজের ক্ষেত্র এবং যোগ্যতার বিচারে অর্জিত অধিকারের সীমা নির্ধারিত। একজন বিজ্ঞানীর গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করা তার অধিকার; এতে অনেক টাকা খরছ হতে পারে।এতে যদি কুমার শ্রেণি দাবী তোলে আমাদেরও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হোক; তা অন্যায্য।
 
সমাজে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন,যাদের উপস্থিতি একটি সমাজকে উজ্জ্বল করে,নন্দিত করে; তাদের দ্বারা সমাজের আর্থিক উন্নতি হয়না।কিন্তু তাদের দ্বারা জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয় দেওয়ার সুযোগ হয়।রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে জাতীয় অস্তিত্বের বহু ধারক অবহেলিত হচ্ছেন।ফলে যারা আমলা কামলার নজরে আসছেন,তারা গৌরবান্বিত (!) হচ্ছেন।পুরস্কৃত হচ্ছেন,আবার পুরস্কার ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সুন্দর ও সত্যের ধারক আড়ালেই থেকে যাচ্ছেন।জাতীয় চরিত্রের মতোই তৃণমূলে কিংবা পরিবার সকল স্থানেই ন্যায্যতার চর্চা নেই। 
 
অর্থ আয়ের চেয়ে ব্যয়ে অধিকতর বিজ্ঞতা প্রত্যাশিত।এটি বোধে প্রবেশপথ না পেলে চিরদিনই আমাদেরকে পরিচয় সংকটে ভুগতে হবে।৩০/০৪/২০২২

ধর্ম ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রসঙ্গে

 

ধর্ম ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রসঙ্গে

তোমরা যুক্তি দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করো, প্রতিরোধ করো।চিৎকার, চেচামেচি করে লাভ নেই।অতি সম্প্রতি ১১৬ জন ব্যক্তির নামের তালিকা সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন দুদকে দিয়েছেন।তাঁরা তালিকা প্রদানের সাথে সাথে যোক্তিক কারণও ব্যাখ্যা করেছেন।যাদের নাম এসেছে তাদের বিশাল এক সমর্থক গোষ্ঠী এদেশে আছে।পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কমেন্টে তাদের মতামত দেখলে বিব্রত হতে হয়।খুবই বাজে শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার করে তারা তাদের দীনতাকেই প্রকাশ করেছেন।আমি মনে করি, যাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে তারা যদি নিজেকে অপরাধী মনে না করেন, তারা লড়াইয়ে নামুন।যাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, তাদের অনেকে বিপুল পরিমান অর্থ আয় করে থাকেন।এখন প্রশ্ন হলো, তাদের এই আয়ের বৈধতা আছে কি? অর্থাৎ এই অর্থ কি সাদা না কালো? সেই বিষয়ে তারা কি নিশ্চিত? তা না হলে অতি দ্রুত তার সুরাহা করা উচিত।যারা তালিকা করেছেন,তারা তৃণমূলে গিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।অতএব, সন্মানিত ওয়াজিনবৃন্দ আপনারা মুখের জোরে না লড়ে, আইনের জোরে লড়ুন।উপার্জিত টাকার উৎস এবং ব্যয়ের হিসাব রাখুন।এটাই উত্তম।
গণকমিশনের প্রতি অনুরোধ
ধর্ম ব্যবসায়ী অভিহিত করে আপনারা এই তালিকা দিয়ে নিজস্ব বিবেকের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন।আপনারা তেমনটা মনে করেন।কিন্তু দেশে অন্যান্য খাতে প্রচুর পরিমাণে চোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ আছে ; এবার তাদের একটি তালিকা করার অনুরোধ করছি।এদের কারণে, সরকারের অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।আশাকরি, বিজ্ঞ কমিশন একটা পদক্ষেপ নিবেন।১৬মে,২০২২

Printfriendly

Featured Post

জাতি নির্মাণে গল্পযোগ

  জাতি নির্মাণে গল্পযোগ   ১ ।   মানুষ সামাজিক জীব।তারা পরিবার গঠন করে।তারপর সে-ই পরিবার একটি গোষ্ঠীতে রুপান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে একাধিক গোষ...