ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে মুসলিম সমাজ তথা সর্বসাধারণের কাছে তুলে ধরার জন্য দেশে হাজার হাজার দ্বীনি প্রতিষ্ঠান আছে।এগুলো কিছু আছে সরকারি তত্ত্বাবধানে, কিছু আছে বেসরকারি তত্ত্বাবধানে। এসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষ শিক্ষকের তত্বাবধানে থাকেন এবং মুসলিম হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ পায়।মৌসুমি বক্তৃতায় মানুষের মনে দ্বীনি জঝবা সৃষ্টি হয় মাত্র।মুসলিম হিসেবে যারা নিজেদের দাবি করতে চাহেন,তাদের উচিত নিজেই কুরআন অধ্যয়ন করা,অনুধাবন করা।পবিত্র কুরআনে আমাদের কুরআন অধ্যয়ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।এতে সুবিধা হলো, এই অধ্যয়নের মাধ্যমে আপনার ভেতর আলোকিত হবে।অন্যদিকে, কয়েক ঘণ্টার মাহফিলে বসে, শুনে আপনি সত্যকে আবিষ্কার করতে পারবেননা এবং আপনার ফজরের নামাজ কাজা হয়ে যাবে।যাদের কারণে অগণিত মানুষের ফজরের নামাজ কাজা হলো, তারাও এই দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা নেই।
শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২
নিন্দা ও যশের ইউনুস
নিন্দা ও যশের ইউনুস
ডঃ ইউনুসকে আমি কোনো দিন দেখেনি।দেশের একটা অংশ মনে করেন, তিনি বিএনপি ঘরানার মানুষ। অনেকেই তাকে সুদখোর বলে নিন্দা ব্যাক্যে বিদ্ধ করেন।কিন্তু ব্যক্তি ইউনুসের আন্তর্জাতিক খ্যাতিতে সমস্যা হয়না।এমনিতে এই দেশটা হলো, ভিন্ন মত ও পথের মানুষের জন্য কারাগার।ইউনুসের রাজনৈতিক উচ্চ বিলাস তার চলার পথকে সীমায়িত করেছে।দেশ শাসনের দাবিদার সম্প্রদায় তাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে।অথচ বাদবাকি বিশ্ব ইউনুসকে নিয়ে গর্ব করে।এখন বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তার উপস্থিতিতে নন্দিত হয়।এখন প্রশ্ন হলো, যাদেরকে তিনি ঋণ দিয়েছেন,তারা তার কর্মকে কিভাবে মূল্যায়ন করছে? ঋণগ্রহীতাদের জন্য ইউনুসের প্রতিষ্ঠানের সামাজিক সুরক্ষার জন্য কিছু কর্মসূচি ছিলো।বিশেষ করে, ঋণগ্রহীতাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাঋণ প্রদানের প্রকল্প ছিলো। এটি বেশ ফলপ্রসূ ছিলো। সম্ভবত এই প্রকল্প এখনো চালু আছে।যারা তার প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন বা নিয়েছিলেন তাদের অভিমত নিয়ে নির্ভরযোগ্য গবেষণার ফলাফলও আমাদের জানা নেই।কিন্তু আমি দু'একজনের সাথে আলাপ করে জেনেছি,তারা এই ঋণদান প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখেন।
এটাও সত্য যে, ইনি নিন্দিত হলেও তার প্রতিষ্ঠানই এদেশে জামানতহীন ঋণদানের সুযোগ দিয়েছে।কোন ব্যাংক জামানতহীন ঋণ দেয়নি কিংবা দেয়না।
২৪মে,২০২২
নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি
নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি
একটা নাম ইতিহাসের অংশ।পাকিস্তান সৃষ্টির পরে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির তকমা দিয়ে বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের চেষ্টা চলেছিল। সাধারণ মানুষ একে ভালো মনে মেনে নেয়নি।বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে যৌক্তিক কারণে, শোষক শ্রেণির চিহ্ন মুছে দেওয়ার প্রত্যয়ে বেশ কিছু স্থাপনা ও স্থানের নামে পরিবর্তন আনা হয়।তখন এর বিরুদ্ধে কিছু বলার সুযোগ বা সাহস কারো ছিলো না।কিন্তু বর্তমানেও বিভিন্ন রাজনীতিবিদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে থাকেন।আমরা মনে করি,নাম পরিবর্তনের পেছনে যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করা প্রয়োজন। কারণ, নামের পরিবর্তন একটা জাতির নৃতাত্ত্বিক সূত্রকে গায়েব করে দিতে পার।
এখন,নামের পরিবর্তন নিয়ে আমার একটা অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারি।কোম্পানিগঞ্জের একটা পুরোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে,রামপুর ফকিরের হাট বজলের রহমান মডেল প্রাইমারী স্কুল।এটি বর্তমানে রমিজ উদ্দিন হাজী বাড়ির দরোজায়।বিগত শতাব্দীর প্রথম দিকে এটি বর্তমান রংমালা মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে ছিলো।সেখানে ফকিরের হাট নামে একটা বাজার ছিলো। ছোট ফেনী নদীর ভাঙ্গনে পড়লে একে সরিয়ে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।যাই হোক।যেহেতু,উক্ত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন ভিক্ষুক; তিনি ভিক্ষা করেই এটি প্রতিষ্ঠা করেন।নিজের পৈতৃক ভূমি দান করেছিলেন।এখনও সে জমি বিদ্যালয়ের নামেই আছে।কিন্তু বছর কুড়ি আগে একটা গোষ্ঠী এই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের তোড়জোড় শুরু করেন।শিক্ষা বিভাগের কর্তাগণ এর প্রতিষ্ঠার পেছনে সত্য জেনে নাম পরিবর্তন প্রত্যাশী দলকে তিরস্কার করেন।এজন্য,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের আয়োজন যেন অতীতের নিবেদিতপ্রাণ মানুষের অবদানকে উপেক্ষার কারণ না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং এবং অন্যান্য
জন্মসূত্র উপেক্ষার বিষয় নয়; অহংকারের বিষয়। যারা জন্মসূত্রকে উপেক্ষা করে,তারা নিজেই উপেক্ষিত হওয়ার পথ সৃষ্টি করে।
মাতা পিতা সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়।সন্তানদের অধিকাংশই ভুলে যায়,তারা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে? তারা সেখানে গিয়ে আত্মমর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হবে,নিজেকে আগামী পৃথিবীর জন্য যোগ্য করে তুলবে,সামাজিক মিথষ্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এক অনন্য সুন্দরের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করবে।কিন্তু জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংস্কৃতি চর্চার দৈন্যতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে গমনের লক্ষ্য অর্জন করা যাচ্ছে না। বর্তমানে, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবিষয় ও পাঠ্যক্রম বিন্যস্ত হচ্ছে অতি সংকীর্ণ মানসিকতার উপর ভিত্তি করে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক বিষয় উপেক্ষিত। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের চিত্ত বিকাশের সুখ পাচ্ছেনা। তারা ভর্তির শুরুতেই ভবিষ্যতে বিত্তবান হওয়ার স্বপ্ন দেখে ; যা তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।তারা না পারে নিজেকে কিছু দিতে, না পারে পরিবারকে, না পারে দেশকে।তারা নিতান্ত আত্মকেন্দ্রিক বস্তুতে রুপান্তরিত হচ্ছে।
যাদের নিয়ে পরিবার গর্ব করে, সম্ভাবনা দেখে তারাই অচিরেই হতাশার কারণ হয়ে যাচ্ছে। এখানে এসে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঋদ্ধ করবে,সিদ্ধ পুরুষ হবে; এরকমই সকলের প্রত্যাশা থাকে।কিন্তু কোথায় যেনো ফাঁক থেকে যাচ্ছে!
এজন্য আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের দু'একটা কোর্স অভিজ্ঞ অধ্যাপকগণ নেওয়া উচিত।মাত্র কৈশোর পেরুনো শিক্ষার্থী যেন তাদের চিত্ত বিকাশের আগেই চিত্তদাহের শিকার না হয়।কারণ,এরা বইয়ে মন না দিয়ে, মন বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তাদের এমন নির্বুদ্ধিতা সম্পর্কে কোর্সের শুরুতেই সতর্ক করা উচিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা কর্মজীবন,সংসার জীবন ও ধর্মীয় কাজে ব্যর্থ হয়েছে তারা সকলেই জ্ঞান-বিনিময় না করে মন বিনিময়েই কাল কাটিয়েছেন। এটা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যচ্যুতি।ফলে আমাদের ক্রিয়েটিভ কাজে যারা অগ্রসর তাদের অধিকাংশের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রির তকমা নেই কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনের জন্য তাদের কোন প্রকার অহংকারও নেই।এদেশকে যারা গার্মেন্টস শিল্পে উচ্চ স্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তারা ক্রিয়েটিভ,স্বশিক্ষিত,আত্মবিশ্বাসী কিন্তু বেশিরভাগি উঁচু ডিগ্রিধারী নয়।এরা নিজেরা জাগ্রত।কারণ,তারা জন্মসূত্রকে স্মরণ করে, শ্রদ্ধা করে এবং মাতাপিতাকে বিশ্বাস করে; সাথে সাথে তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়।
অন্যদিকে, মুক্ত স্বদেশে অন্য এক ধরনের শিক্ষার্থী আছে,যারা পরিচয় সংকটে বিব্রত। বিব্রত আরো বহু ক্ষেত্রে।কিন্তু তারা চায় প্রতিষ্ঠা। এজন্য তারা কৌশলী পথে এগিয়ে যায়।আমাদের পরিচিত দু'চার জন্য আছেন,যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব চুকানোর আগেই ঘর বেঁধেছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকানোর পরপরই বাঁধন চিহ্ন হয়ে যায়।এতে একপক্ষ তীব্র ঘৃণা ও আক্রোশ নিয়ে সরে যেতে হয়েছিলো। এখানে,সকল ক্ষেত্রেই নারী সঙ্গীই গুণে গুণে টাকা নিয়েছিলো। কিন্তু তাদের মাতাপিতা, অভিভাবক কেহই চায়নি , জীবনের শুরুতে তাদের সন্তানদের তেমনতর চিত্তদাহ আসুক।
যে লক্ষ্য নিয়ে ছেলে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে,তাদের সেই লক্ষ্য অর্জিত হোক ; এই প্রত্যাশা করি।র্যাংকিং নিয়ে আমাদের ভাবতে হবেনা।১১/০৬/২০২২
প্রসঙ্গঃফেজবুক ওয়াজিন
প্রসঙ্গঃফেজবুক ওয়াজিন
ফেসবুক ওয়াজিনের ভয়ে আমি ভীত।এদের প্রায় প্রত্যেকের ওয়াজ আমি মনোযোগ সহকারে শুনে থাকি।কিন্তু অধিকাংশই অনুমানের উপর ভিত্তি করে বহু তথ্য উপস্থাপন করে থাকেন।ক'দিন আগে একজন খ্যাতিমান বললেন,পৃথিবীতে ৩৫০ কোটি খ্রিস্টান আছে,মুসলিম আছে ২০০ কোটি, বৌদ্ধ ২০০ কোটির উপরে, আরো আছে হিন্দু, জৈন,শিখ। আম জনতা এসব শুনে, পরষ্পরে আলোচনা করে,আর মাঝে এদের রেফারেন্স দিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে দেয়।এসব ওয়াজিনের অনুমানের উপর এদের(ওয়াজিন) প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আছে বুঝা যায়।কিন্তু এরা ভুলে যায়, মানুষ ক্ষমা প্রার্থী হলে আল্লাহ অবস্থার পরিবর্তন করে দিতে পারেন এবং কিয়ামত,ইমাম মেহেদী, দাজ্জাল হয়তো আগামী শত বছরেও আসবেনা। আমি বুঝতে পারছিনা, এরা এটা কি জানেনা?
আমি বুঝতে পারি, আল্লাহ কারো উপর অসন্তুষ্ট হলে তাঁর মুখ দিয়ে বিভ্রান্তিকর বাক্য বের করেন, তাদের আচরণে স্পষ্টতঃ শরিয়তের বিধিবিধানকে উপেক্ষা করার সুযোগ করে দেয়; ফলে তারা তাদের আগুনে জ্বলে পুড়ে মরে।এই নমুনা আমরা দেখতে পাচ্ছি।অথচ মাঝে আম জনতার বিশ্বাসে আঘাত আসে।সরকার এই বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।ইসলাম কারো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; যেমন ইচ্ছে, তেমনি ব্যাখ্যা করবে।।আল্লাহ সহজ সরল মানুষদেরকে এদের বিভ্রান্তিকর শব্দবাণ থেকে রক্ষা করুন।
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাহুগ্রাস
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাহুগ্রাস
মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিশু ও কিশোরদের পাঠদান করা হয়।এক সময় আমরাও বিদ্যালয়ে ছিলাম, স্যারদের কাছাকাছি ছিলাম।স্যারেরা আমাদেরকে শাসন করেছিলেন,যত্নও করেছিলেন।তখন বিদ্যালয়ে ছাত্র নেতৃত্ব নির্বাচিত হতো।স্যারেরাই নেতা নির্বাচিত করতেন।অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেধাবী ও স্কাউটের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীরাই নেতা নির্বাচিত হতেন।
এখন সময় বদলেছে।বিদ্যালয়ে ক্যাবিনেট হয়।বড় আয়োজন। প্রায় সকল ক্যাবিনেট নির্বাচনে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবর্গের সম্পৃক্ততা দেখা যায়।ফলে এসকল ছাত্ররা অতি দ্রুত এলাকার বড় ভাইদের হাতের লাঠি হয়।তাদের পড়া লেখা লাটে ওঠে।তাদের বাকি সময় মন্দ স্রোতের প্রবাহে প্রবাহিত হয়।তাদেরকে বড় ভাইয়েরা নেতা বলেই ডাকাডাকি করে।তাদের ভাব কে দেখে!
এই পর্যায়ে মহা সংকটে আছেন, দেশপ্রেমিক শিক্ষাবিদেরাই।এরা অসাম্প্রদায়িক এবং শিক্ষাদানে একনিষ্ঠ। এরা অন্যায় দেখলে মুখ খুলেন,কথা বলেন। এরা শিক্ষক হিসেবেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিকটে জনপ্রিয়।এখানেই মূলতঃ সমস্যা।তারা দলবাজি করেন না।এজন্য তারা দুর্বল।মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে।তাদের কর্মী ও সমর্থক গোষ্ঠী স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় জড়িত।কিন্তু তাদের চোখের উপরেই শিক্ষক হেনস্তা হচ্ছেন,খুনের শিকার হচ্ছেন।এবং যারা এর শিকার হচ্ছেন, তারা সকলেই হিন্দু ধর্মালম্বী শিক্ষক।এটি বড়ই বিব্রতকর। বিষয়টি উপর মহল থেকেই তদন্ত করা উচিত।এতে কোন প্রকার গাফেলতি অগ্রহণযোগ্য। যারা উন্নত এবং দেশের সত্যিকার নির্মাতা, তাদেরকে ধ্বংসের প্রক্রিয়া দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।
বই ও ক্রেস্ট সমাচার
বই ও ক্রেস্ট সমাচার
ক্রেস্টেই ভক্তি,ক্রেস্টেই মুক্তি!শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন থালা,বাসন,বাটি, গ্লাস দিয়ে জাতীয় শিক্ষা সাপ্তাহ,ক্রীড়াসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদানের জোয়ার শুরু হলো,তখনই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এসেছিলো। তারা জানালেন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল প্রতিযোগিতা ও সন্মানিত করার পুরস্কার বই দিয়ে দিতে হবে।সকলেই বইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করলেন।কিন্তু বইকে দেয়া হলো হলো না।কারন,বইয়ের মুখ আছে; তার পাতা উল্টালেই সে কথা বলে।সে কথা বলে,যুক্তি ও মুক্তির কথা।এতো কথা কারই বা ভালো লাগবে? অবশেষে, সকলেই ভরসা করলেন ক্রেস্টে।ড্রয়িং রুমে সদা প্রদর্শিত ক্রেস্ট দেখে উপহার পাওয়া ব্যক্তির অহংকারে বুক ফুলে উঠবে,সিরামিকের শাদা থালায় খেতে বসে সামাজিক উঁচু আসনের কথা মনে পড়বে। কিন্তু ভালো বই আমাদের ভেতর জাগিয়ে তুলবে।বই নিয়ে বোঝাপড়া, কথা বলা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
একসময় আমরা আলোচনা করতাম কার কয়টা বই আছে।এখন আলোচনা হয়, কার কয়টা ক্রেস্ট আছে।থালা, বাসন,বাটি উপেক্ষিত থেকে যায়।অচিরেই প্রাপ্ত থালা,বাসনও আলোচনার বিষয় হবে।
সমাজ যখন উল্টো স্রোতে বহমান থাকে,তখন জ্ঞানীরাই সজ্ঞানে হাল ধরে থাকেন।আমাদের যে কী হলো! সকলেই ভেসে যাচ্ছি।এমন চলা অনুচিত।বিদ্যালয়ে আসন্ন প্রতিযোগিতায় বইকেই পুরস্কার হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।এটা বিবেক,প্রজ্ঞা ও সময়ের দাবি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ থাকলো, তারা যেন বিশেষ নির্দেশনা দেয়।প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন পুরস্কারের জন্য কেনা বইয়ের ছবি প্রেরণ করে।এতে হয়তো অবস্থার পরিবর্তন হবে।
২৭/০৭/২০২২
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
Printfriendly
Featured Post
জাতি নির্মাণে গল্পযোগ
জাতি নির্মাণে গল্পযোগ ১ । মানুষ সামাজিক জীব।তারা পরিবার গঠন করে।তারপর সে-ই পরিবার একটি গোষ্ঠীতে রুপান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে একাধিক গোষ...
-
রাজাকার শব্দের ব্যবহারে রাজনীতি বাংলাদেশে সুবিধাবাদীদের দৌরাত্ম্য অপ্রতিহত গতিতে অগ্রসরমান।বিশেষ করে রাজাকার শব্দের অনৈতিক ব্যবহার। ...
-
কোম্পানিগঞ্জে র মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষার হালহকিকত বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তি মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। ম...
-
বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন বাংলাদেশের আম জনতার সিংহভাগ তাদের অধিকার সম্পর্কে জানে না; কারণ তাদেরকে এ সম্পর্কে জানতে দেয়া হ...