শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং এবং অন্যান্য

জন্মসূত্র উপেক্ষার বিষয় নয়; অহংকারের বিষয়। যারা জন্মসূত্রকে উপেক্ষা করে,তারা নিজেই উপেক্ষিত হওয়ার পথ সৃষ্টি করে।
    মাতা পিতা সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়।সন্তানদের অধিকাংশই ভুলে যায়,তারা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে? তারা সেখানে গিয়ে আত্মমর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হবে,নিজেকে আগামী পৃথিবীর জন্য যোগ্য করে তুলবে,সামাজিক মিথষ্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এক অনন্য সুন্দরের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করবে।কিন্তু জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংস্কৃতি চর্চার দৈন্যতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে গমনের লক্ষ্য অর্জন করা যাচ্ছে না। বর্তমানে, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবিষয় ও পাঠ্যক্রম বিন্যস্ত হচ্ছে অতি সংকীর্ণ মানসিকতার উপর ভিত্তি করে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিক বিষয় উপেক্ষিত। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের চিত্ত বিকাশের সুখ পাচ্ছেনা। তারা ভর্তির শুরুতেই ভবিষ্যতে বিত্তবান হওয়ার স্বপ্ন দেখে ; যা তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।তারা না পারে নিজেকে কিছু দিতে, না পারে পরিবারকে, না পারে দেশকে।তারা নিতান্ত আত্মকেন্দ্রিক বস্তুতে রুপান্তরিত হচ্ছে।
যাদের নিয়ে পরিবার গর্ব করে, সম্ভাবনা দেখে তারাই অচিরেই হতাশার কারণ হয়ে যাচ্ছে। এখানে এসে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঋদ্ধ করবে,সিদ্ধ পুরুষ হবে; এরকমই সকলের প্রত্যাশা থাকে।কিন্তু কোথায় যেনো ফাঁক থেকে যাচ্ছে!
এজন্য আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের দু'একটা কোর্স অভিজ্ঞ অধ্যাপকগণ নেওয়া উচিত।মাত্র কৈশোর পেরুনো শিক্ষার্থী যেন তাদের চিত্ত বিকাশের আগেই চিত্তদাহের শিকার না হয়।কারণ,এরা বইয়ে মন না দিয়ে, মন বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তাদের এমন নির্বুদ্ধিতা সম্পর্কে কোর্সের শুরুতেই সতর্ক করা উচিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা কর্মজীবন,সংসার জীবন ও ধর্মীয় কাজে ব্যর্থ হয়েছে তারা সকলেই জ্ঞান-বিনিময় না করে মন বিনিময়েই কাল কাটিয়েছেন। এটা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যচ্যুতি।ফলে আমাদের ক্রিয়েটিভ কাজে যারা অগ্রসর তাদের অধিকাংশের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রির তকমা নেই কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনের জন্য তাদের কোন প্রকার অহংকারও নেই।এদেশকে যারা গার্মেন্টস শিল্পে উচ্চ স্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তারা ক্রিয়েটিভ,স্বশিক্ষিত,আত্মবিশ্বাসী কিন্তু বেশিরভাগি উঁচু ডিগ্রিধারী নয়।এরা নিজেরা জাগ্রত।কারণ,তারা জন্মসূত্রকে স্মরণ করে, শ্রদ্ধা করে এবং মাতাপিতাকে বিশ্বাস করে; সাথে সাথে তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দেয়।
অন্যদিকে, মুক্ত স্বদেশে অন্য এক ধরনের শিক্ষার্থী আছে,যারা পরিচয় সংকটে বিব্রত। বিব্রত আরো বহু ক্ষেত্রে।কিন্তু তারা চায় প্রতিষ্ঠা। এজন্য তারা কৌশলী পথে এগিয়ে যায়।আমাদের পরিচিত দু'চার জন্য আছেন,যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব চুকানোর আগেই ঘর বেঁধেছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকানোর পরপরই বাঁধন চিহ্ন হয়ে যায়।এতে একপক্ষ তীব্র ঘৃণা ও আক্রোশ নিয়ে সরে যেতে হয়েছিলো। এখানে,সকল ক্ষেত্রেই নারী সঙ্গীই গুণে গুণে টাকা নিয়েছিলো। কিন্তু তাদের মাতাপিতা, অভিভাবক কেহই চায়নি , জীবনের শুরুতে তাদের সন্তানদের তেমনতর চিত্তদাহ আসুক।
যে লক্ষ্য নিয়ে ছেলে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে,তাদের সেই লক্ষ্য অর্জিত হোক ; এই প্রত্যাশা করি।র্যাংকিং নিয়ে আমাদের ভাবতে হবেনা।১১/০৬/২০২২

প্রসঙ্গঃফেজবুক ওয়াজিন

 

প্রসঙ্গঃফেজবুক ওয়াজিন
ফেসবুক ওয়াজিনের ভয়ে আমি ভীত।এদের প্রায় প্রত্যেকের ওয়াজ আমি মনোযোগ সহকারে শুনে থাকি।কিন্তু অধিকাংশই অনুমানের উপর ভিত্তি করে বহু তথ্য উপস্থাপন করে থাকেন।ক'দিন আগে একজন খ্যাতিমান বললেন,পৃথিবীতে ৩৫০ কোটি খ্রিস্টান আছে,মুসলিম আছে ২০০ কোটি, বৌদ্ধ ২০০ কোটির উপরে, আরো আছে হিন্দু, জৈন,শিখ। আম জনতা এসব শুনে, পরষ্পরে আলোচনা করে,আর মাঝে এদের রেফারেন্স দিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে দেয়।এসব ওয়াজিনের অনুমানের উপর এদের(ওয়াজিন) প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আছে বুঝা যায়।কিন্তু এরা ভুলে যায়, মানুষ ক্ষমা প্রার্থী হলে আল্লাহ অবস্থার পরিবর্তন করে দিতে পারেন এবং কিয়ামত,ইমাম মেহেদী, দাজ্জাল হয়তো আগামী শত বছরেও আসবেনা। আমি বুঝতে পারছিনা, এরা এটা কি জানেনা?
আমি বুঝতে পারি, আল্লাহ কারো উপর অসন্তুষ্ট হলে তাঁর মুখ দিয়ে বিভ্রান্তিকর বাক্য বের করেন, তাদের আচরণে স্পষ্টতঃ শরিয়তের বিধিবিধানকে উপেক্ষা করার সুযোগ করে দেয়; ফলে তারা তাদের আগুনে জ্বলে পুড়ে মরে।এই নমুনা আমরা দেখতে পাচ্ছি।অথচ মাঝে আম জনতার বিশ্বাসে আঘাত আসে।সরকার এই বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।ইসলাম কারো ব্যক্তিগত বিষয় নয়; যেমন ইচ্ছে, তেমনি ব্যাখ্যা করবে।।আল্লাহ সহজ সরল মানুষদেরকে এদের বিভ্রান্তিকর শব্দবাণ থেকে রক্ষা করুন।

মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাহুগ্রাস

 

মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাহুগ্রাস
মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিশু ও কিশোরদের পাঠদান করা হয়।এক সময় আমরাও বিদ্যালয়ে ছিলাম, স্যারদের কাছাকাছি ছিলাম।স্যারেরা আমাদেরকে শাসন করেছিলেন,যত্নও করেছিলেন।তখন বিদ্যালয়ে ছাত্র নেতৃত্ব নির্বাচিত হতো।স্যারেরাই নেতা নির্বাচিত করতেন।অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেধাবী ও স্কাউটের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীরাই নেতা নির্বাচিত হতেন।
এখন সময় বদলেছে।বিদ্যালয়ে ক্যাবিনেট হয়।বড় আয়োজন। প্রায় সকল ক্যাবিনেট নির্বাচনে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবর্গের সম্পৃক্ততা দেখা যায়।ফলে এসকল ছাত্ররা অতি দ্রুত এলাকার বড় ভাইদের হাতের লাঠি হয়।তাদের পড়া লেখা লাটে ওঠে।তাদের বাকি সময় মন্দ স্রোতের প্রবাহে প্রবাহিত হয়।তাদেরকে বড় ভাইয়েরা নেতা বলেই ডাকাডাকি করে।তাদের ভাব কে দেখে! 
 
    এই পর্যায়ে মহা সংকটে আছেন, দেশপ্রেমিক শিক্ষাবিদেরাই।এরা অসাম্প্রদায়িক এবং শিক্ষাদানে একনিষ্ঠ। এরা অন্যায় দেখলে মুখ খুলেন,কথা বলেন। এরা শিক্ষক হিসেবেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিকটে জনপ্রিয়।এখানেই মূলতঃ সমস্যা।তারা দলবাজি করেন না।এজন্য তারা দুর্বল।মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে।তাদের কর্মী ও সমর্থক গোষ্ঠী স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় জড়িত।কিন্তু তাদের চোখের উপরেই শিক্ষক হেনস্তা হচ্ছেন,খুনের শিকার হচ্ছেন।এবং যারা এর শিকার হচ্ছেন, তারা সকলেই হিন্দু ধর্মালম্বী শিক্ষক।এটি বড়ই বিব্রতকর। বিষয়টি উপর মহল থেকেই তদন্ত করা উচিত।এতে কোন প্রকার গাফেলতি অগ্রহণযোগ্য। যারা উন্নত এবং দেশের সত্যিকার নির্মাতা, তাদেরকে ধ্বংসের প্রক্রিয়া দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

বই ও ক্রেস্ট সমাচার

 

বই ও ক্রেস্ট সমাচার
ক্রেস্টেই ভক্তি,ক্রেস্টেই মুক্তি!শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন থালা,বাসন,বাটি, গ্লাস দিয়ে জাতীয় শিক্ষা সাপ্তাহ,ক্রীড়াসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদানের জোয়ার শুরু হলো,তখনই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এসেছিলো। তারা জানালেন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল প্রতিযোগিতা ও সন্মানিত করার পুরস্কার বই দিয়ে দিতে হবে।সকলেই বইয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করলেন।কিন্তু বইকে দেয়া হলো হলো না।কারন,বইয়ের মুখ আছে; তার পাতা উল্টালেই সে কথা বলে।সে কথা বলে,যুক্তি ও মুক্তির কথা।এতো কথা কারই বা ভালো লাগবে? অবশেষে, সকলেই ভরসা করলেন ক্রেস্টে।ড্রয়িং রুমে সদা প্রদর্শিত ক্রেস্ট দেখে উপহার পাওয়া ব্যক্তির অহংকারে বুক ফুলে উঠবে,সিরামিকের শাদা থালায় খেতে বসে সামাজিক উঁচু আসনের কথা মনে পড়বে। কিন্তু ভালো বই আমাদের ভেতর জাগিয়ে তুলবে।বই নিয়ে বোঝাপড়া, কথা বলা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
একসময় আমরা আলোচনা করতাম কার কয়টা বই আছে।এখন আলোচনা হয়, কার কয়টা ক্রেস্ট আছে।থালা, বাসন,বাটি উপেক্ষিত থেকে যায়।অচিরেই প্রাপ্ত থালা,বাসনও আলোচনার বিষয় হবে।
সমাজ যখন উল্টো স্রোতে বহমান থাকে,তখন জ্ঞানীরাই সজ্ঞানে হাল ধরে থাকেন।আমাদের যে কী হলো! সকলেই ভেসে যাচ্ছি।এমন চলা অনুচিত।বিদ্যালয়ে আসন্ন প্রতিযোগিতায় বইকেই পুরস্কার হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।এটা বিবেক,প্রজ্ঞা ও সময়ের দাবি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ থাকলো, তারা যেন বিশেষ নির্দেশনা দেয়।প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন পুরস্কারের জন্য কেনা বইয়ের ছবি প্রেরণ করে।এতে হয়তো অবস্থার পরিবর্তন হবে।
২৭/০৭/২০২২

টাইলস ব্যবসায় ভোক্তা ঠকানোর কলা কৌশল

 

টাইলস ব্যবসায় ভোক্তা ঠকানোর কলা কৌশল

দেশে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় আইন আছে,আইন প্রয়োগের জন্য সরকারি কর্মকর্তা আছে।কিন্তু এসকল কিছু থাকার পরেও ভোক্তা অধিকার কতোটুকু রক্ষিত হচ্ছে? এটা আমাদের জিজ্ঞাসা।এক্ষেত্রে কতিপয় সমস্যা পরিলক্ষিত দেখা যায়।প্রথমতঃ উপজেলা পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ আসবার সুযোগ কম।দ্বিতীয়ত ভোক্তাগণ ঠকলেও এ-র প্রতিকার সম্পর্কে অবহিত নয়।তারা জানেনা কোথায়, কিভাবে অভিযোগ করতে হবে।এজন্য আমারা কিছু সুপারিশ করতে চাই।

ভোক্তাগণ কিভাবে,কোথায় ও কেনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা অনুসন্ধান করা উচিত।কিছু পন্য ভোক্তারা সারা জীবনে একবারই কিনে থাকে।এসকল পন্য ক্রয়ে ভোক্তা অধিকার সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হচ্ছে।এগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে আছেঃ গৃহ নির্মাণ সামগ্রী। আমি গৃহ নির্মাণ সামগ্রীতে ব্যবহৃত বিলাসী পন্য হিসেবে স্বীকৃত টাইলস নিয়ে বলতে যাচ্ছি।এ-ই পন্যে ভোক্তারা প্রতিনিয়তই ঠকে যাচ্ছেন।অধিকাংশ টাইলস ক্রেতা বিক্রেতা কর্তৃক প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে করে থাকেন এবং ঠকেছেন বুঝতে পারলেও তারা কেহ ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দারস্থ হননা।অনেকেই লজ্জা বোধ করেন।অনেকে অফিস পর্যন্ত যাওয়ার উপায়ও জানেন না। ফলে অসাধু বিক্রেতাদের অপকর্ম চলমান আছে।এজন্য ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের উচিত নিজ উদ্যোগে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা।আমি তাদের সদয় জ্ঞাতার্থে টাইলস বিক্রেতাদের অসাধুতার কতিপয় দিক ইঙ্গিত করছি।এটি মূলতঃ মাঠ পর্যায়ে সংঘটিত ঘটনা।
ক)অধিকাংশ টাইলস বিক্রেতাগণ তাদের মেমোতে সুনির্দিষ্ট টাইলসের মাপ, কোড ও কোম্পানির নাম উল্লেখ করেন না।টাইলস মিলি মিটার বা ফুটে বিক্রি করা হয়।এগুলো সব একই মাপের নয়।ফলে প্রতি কার্টনে রক্ষিত টাইলসের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।বিক্রেতারা শুধুমাত্র কার্টন সংখ্যা ও টাকা উল্লেখ করে থাকেন।অনেক সময়ে শুধুমাত্র টাকার মান উল্লেখ করে থাকেন।
খ) বিক্রেতাগণ এক কোম্পানির পন্য দেখিয়ে অন্য কোম্পানির পন্য সরবরাহ করেন।তারা পন্যের কোম্পানির নাম ক্যাশ মেমোতে উল্লেখ করেন না।
গ) বিক্রেতাগণ টাইলস মেস্তরীদের সাথে আঁতাত করে টাইলসের হিসেবে গরমিল করেন।অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা টাইলসের হিসেবে বেশি দেখিয়ে থাকেন এবং টাইলস সরবরাহের সময় বেশি দেখানো টাইলস দোকানেই থেকে যায়। পরে টাকা ভাগাভাগি হয়।
ঘ)বিক্রেতারা কার্টন খুলে নিম্ন মানের পন্য পুনস্থাপন করেন এবং তা সরবরাহ করেন।অর্থাৎ এ গ্রেডের টাকা নিয়ে বি গ্রেডের পন্য/টাইলস হস্থান্তর করেন।একাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা বিষয়টি বিশেষভাবে অবগত। তাদেরকে গোপনে জিজ্ঞাসা করলে তারা সত্য প্রকাশ করবে।
ঙ) এতো কিছুর পরেও কিছু ব্যবসায়ী সততা রক্ষায় প্রতিশ্রুতবদ্ধ। তারাই এসকল অসাধুদের অনাচারের শিকার হচ্ছেন।তাদের ব্যবসা গুটিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এজন্য যথাযত কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান অনাচার রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
ভোক্তাদের প্রতি পরামর্শঃ
টাইলসের সাইজ সম্পর্কে জানুন।বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সাইজের , বিভিন্ন মান/ গ্রেডের টাইলস ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।
আমরা সাধারণ কাস্টমার প্রচলিত (8*12,10*16,12*20,16*16/20*20,12*18 ইত্যাদি)সাইজের যে কোন টাইলস ক্রয় করতে পারি। কিন্তু আমরা কি কখনো হিসাব করে দেখেছি বা দেখি, আপনার ক্রয়কৃত টাইলস কত বক্স/ কত পিচে সঠিক পরিমাণ হবে।
দালালের হাতে দায়িত্ব দিতে সতর্ক থাকুনঃ
আমরা বেশির ভাগ কাস্টমার এবিষয়ে অসচেতন।আপনি হিসেবের ভার খুচরা ব্যাবসায়ী কিংবা টাইলস মিস্তিরির হাতে তুলে দিয়েছেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু খুচরা বিক্রেতা মূল্য পরিশোধের অনুকূলে প্রাপ্য ক্রয়কৃত পণ্য সঠিক মান( গ্রেড ) ও পরিমাণ সরবরাহ করছে না।সাধারণ কাস্টমারদের ঠকিয়ে কেউ কেউ তৃতীয় পক্ষ(দালাল)কে টাকা দিয়ে টাইলস বিক্রি করছে। এসব ব্যবসায়ী ক্রয় রশিদে ক্রয়কৃত পণ্যের সঠিক পরিমাণ ও মান গ্রেড উল্লেখ করছে না।এই দুষ্টু চক্রের ফাঁদে আমরা ক্রেতা সাধারণ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এক্ষেত্রে টাইলস ক্রয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার চাহিদা অনুযায়ী ক্রয়কৃত টাইলসের প্রতিটি আইটেমের ডিটেইলস মেমো তে উল্লেখ আছে কিনা দেখা উচিত। (যেমন : টাইলসের কোড, সাইজ, গ্রেড )এবং টাইলস ক্রয়ের অনুকূলে পণ্য সরবরাহের বিবরণ (যেমন: কত কার্টন ,কত পিচ ইত্যাদি )
ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরজমিনে টাইলস বিক্রেতাদের দোকান পরিদর্শন করলে এ-র সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।তাঁরা বিক্রেতাদের ক্যাশ মেমো, চালান ইত্যাদি যাচাই করে দেখতে পারেন।
একজন ব্যক্তি সারা জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গৃহ নির্মাণ করেন।টাইলস করেন।জীবনে একবার করা কাজ করতে গিয়ে বিক্রেতা কর্তৃক প্রতারিত হন।তাদের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ আমাদের অনুধাবন করা উচিত।
২৯/০৭/২০২২

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের বর্তমান প্রবণতা

 

মানব শিশুর সামাজিকীকরণে মিথষ্ক্রিয়া অতি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ।মজার বিষয় হচ্ছে এটি বিশেষ্য; এ-র বিপরীত শব্দ নেই।আমি পাচ্ছিনা।পারষ্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটা উন্নততর অবস্থায় উপনীত হওয়ার পথকে মিথষ্ক্রিয়া বলে।আমি মিথষ্ক্রিয়াকে মানুষের অভিযোজন সক্ষমতার সাথে সমানুপাতিক সম্পর্কে যুক্ত বলে মনে করি।কারণ,এই প্রক্রিয়ায় মানবজাতি তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে এবং ক্রমাগত উন্নততর অবস্থায় উপনীত হচ্ছে। কিন্তু পারষ্পরিক যোগাযোগের, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরে যদি অবনত অবস্থায় পৌঁছে, তাহলে তাকে কী বলা হবে? এটি আমার জানা নেই।শিক্ষা বিজ্ঞানের পারিভাষিক শব্দ হিসেবে বিবেচনা করলে এটি নিসন্দেহে একটি ইতিবাচক শব্দ এবং প্রত্যাশিত।
লক্ষ্য অভিন্ন হলে কিংবা কাছাকাছি হলে মিথষ্ক্রিয়া সহজতর হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল পরিবেশে এই প্রক্রিয়া চলমান থাকে এবং এ-র মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পারষ্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করে।ভিন্ন মত ও পথকে যুক্তির মানদণ্ডে পরিমাপ করে।অবশেষে, সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।এখন প্রশ্ন হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য সেখানে যায়? নিশ্চয় তারা নতুন উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রজ্ঞার বিস্তারণের মধ্য দিয়ে নতুন জ্ঞান সৃজনের লক্ষ্য নিয়ে যায়।
বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির অস্থির অবস্থা দ্বারা সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বিশাল অংশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গ্যাছে।তারা চাকুরী মুখি প্রবণতা দ্বারা প্রবলভাবে আক্রান্ত।অনেকেই শিক্ষা জীবনের এ-ই পর্যায়ে এসে বিসিএস-এর আদলে একটি চাকুরী পাওয়ার আশায় শিক্ষা অর্জন করছে।ফলে উন্নয়নের মানবিক দিক চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।অন্যদিকে, জ্ঞানচর্চার সামষ্টিক শক্তির দিকে তারা দৃষ্টি কেউ দিচ্ছে না।শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশ যুগলপ্রেমের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে ; যা তাদের সামষ্টিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের মহত্ত্ব ও বিশালত্ব অবহেলিত হচ্ছে।তারা প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সাহস ও শক্তি হারিয়েছে।বিশাল প্রকৃতি যে আমাদের মৌলিক শিক্ষালয়- তা আমরা ভুলে যাচ্ছি।
এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক,অভিভাবক সকলেই সচেতন হওয়া উচিত।শিক্ষার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমাদের সাধন পথ রচিত হবে; যাতে আমাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
০৩/০৮/২০২২

আশুরার তাৎপর্য

আড্ডার দিনগুলো---00 আশুরাঃ আড্ডা মানেই গল্প করা;চিৎকার নয়।আড্ডা মানে কিছু প্রশ্ন, কিছু উত্তর। আড্ডা মানে অতৃপ্তির অপনোদন।এটা সময়কে উপভোগ করার উপায়,সময়কে ধরে রাখার কৌশল। প্রায় প্রতিদিন আমাদের আড্ডা জমে।আমরা সঠিক জানিনা কোন বিষয়টি আগামীদিনের আলোচনার বিষয় হবে।তবে,মাঝে মাঝে অনুমান করা যায়।গতকাল ছিলো আশুরা।ফলে আশুরার তাৎপর্য নিয়ে আমাদের মধ্যে উপস্থিত একজন জানতে চাইলো।যিনি জানতে চাইলেন, আমরা তাকে ১ম ব্যক্তি,যিনি উত্তর দিচ্ছেন তাকে আমরা ২য় ব্যক্তি এবং উপস্থিত অন্যজনকে ৩য় ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে রাখলাম। ২য় ব্যক্তি বলতে লাগলেন।আশুরা মূলত উদ্ যাপনের দিন,শুকরিয়া আদায়ের দিন।আল্লাহর রাসূল(সাঃ) এ-ই দিনকে উদযাপনই করেছেন।তিনি নিজে এ-ই দিন উপলক্ষে দু'দিন রোজা রেখেছেন।পবিত্র কুরআনে বর্ণিত মুসার নেতৃত্বে ইহুদীরা এ-ই দিন ফিরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিলো বলে মনে করা হয়।ইসরাইলী তথ্যসূত্র থেকে এটি জানা যায় এবং এ-র সপক্ষে সহীহ হাদিস রয়েছে।তবে অনেক ইসলামি পণ্ডিত ইহুদী, নাসারাদের তথ্যের সূত্র অনুসরণ করে এ-ই দিনের মহত্ব ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলে থাকেন। আশুরা মাল্টি কালচারাল ও মাল্টি-রিলিজিয়াস ধরনের উৎসব। এ-ই দিন ইহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম এ-ই তিন ধর্মের মানুষ পালন করে থাকে।তবে মুসলমানদের মধ্যে এ-ই দিনকে উদযাপনের চেয়ে শোকের মাতমের মাধ্যমেই বেশি স্মরণ করা হয়।মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ, সংঘাত ও যুদ্ধ এ-ই দিনকে শোক ও দুঃখের দিন হিসেবে উপস্থিত করেছে।হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন(রাঃ) ও তাঁর পরিবারের সত্তরজন মানুষ (নারী ও শিশু) এজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন। এজন্য, মুসলমানদের মধ্যে শিয়া সম্প্রদায় তাজিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সহমর্মিতা ও শোক প্রকাশ করে,সূন্নী সম্প্রদায় মিল্লাদ মাহফিলের আয়োজন করে।কিন্তু আশুরার মূল শিক্ষা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়না। ইতিহাসের অংশ হিসেবে শুধুমাত্র মুসা(আঃ) ও ফিরাউনের কাহিনী ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করলে আশুরার আলোচনা পূর্ণতা পায়।কিন্তু আলোচকদের আলোচনায় কাহিনী থেকে শিক্ষা লাভের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়। মুসা(সাঃ) সাথে ফিরাউনের ক্ষমতার দ্বন্ধ ছিলো না।তার বিনীত নিবেদন ছিলোঃআল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ফিরাউনকে সতর্ক করা।ইজরায়েলের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়া, তাকে পবিত্র হওয়ার জন্য নম্রভাবে বলা,সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা।মুসা ফিরাউনের রাজত্বের অংশীদার হতে চায়নি।এ-ই সেই ফিরাউন যার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বহু বর্ণনা আছে।এখন প্রশ্ন হচ্ছে,আশুরার আলোচনায় আমাদের আলোচনায় আসা উচিত আমরা কোন ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করছি; মুসা না ফিরাউন? ফিরাউন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ৭৫ স্থানে উল্লেখ আছে।ফিরাউন বনী ইজরাইলদের ছেলেদেরকে হত্যা করতো,তাদেরকে কঠিন কষ্ট দিতো,নারীদেরকে বাঁচিয়ে রাখতো ; তাদেরকে ভয়ানক নির্যাতন করতো।সে নিজেকে যোগ্যতম ও একমাত্র শাসক হওয়ার অধিকারী হিসেবে মনে করতো।সে ছিলো খুবই অহংকারী।শাসক নামে সে ছিলো একজন জালিম।সে মিসর বাসীকে সকল প্রকার মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলো। এখন আমাদের মধ্যেও ফিরাউনী বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। এমন যদি হয়,তাহলে আমরা কিভাবে মানবিক সমাজ নির্মান করতে সমর্থ হবো? মানবিক সমাজ নির্মান করতে হলে মুসার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করা ছাড়া উপায় নেই। আশুরার শিক্ষা হচ্ছে এ-ই যে,আমরা মুসার কর্মপন্থা অনুসরণ করতে হবে।ন্যায়যুদ্ধে শহীদ হওয়া হজরত হোসাইন(রাঃ) -এর পথই অনুসরণ করতে হবে।শোককে শক্তিতে রুপান্তরের জন্য এ-ই দুজনের বৈশিষ্ট্য অর্জন করা আবশ্যক।

Printfriendly

Featured Post

জাতি নির্মাণে গল্পযোগ

  জাতি নির্মাণে গল্পযোগ   ১ ।   মানুষ সামাজিক জীব।তারা পরিবার গঠন করে।তারপর সে-ই পরিবার একটি গোষ্ঠীতে রুপান্তরিত হয় এবং ধীরে ধীরে একাধিক গোষ...